রাজশাহীতে ৩৬ শতাংশ ঘাটতি বিদ্যুতের

রাজশাহী প্রতিনিধি, রাজশাহী

রাজশাহীতে হঠাৎ বিদ্যুতের লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর প্রতিটি এলাকায় এক থেকে দুই বার লোডসেডিং থাকছে। একেতো রমজান মাস তার ওপর গরম। এর মাঝে বিদ্যুতের এমন আসা যাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মাঝে।

তবে উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠান নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানী লিমিটেড (নেসকো) তথ্য মতে, রাজশাহীতে বিদ্যুতের চাহিদার অনুপাতে ঘটতি রয়েছে প্রায় ৩৬ শতাংশ। এ কারণে লোড ম্যানেজমেন্ট করা হচ্ছে।

তারা বলছে, গরমের জন্য বাড়িতে বাড়িতে এসি চলছে। এছাড়াও সন্ধ্যায় পর নামাজের জন্য মসজিদগুলোতেও চালানো হয় এসি। আবার খরা মৌসুম হওয়ায় সেচ কাজেও বেড়েছে বিদ্যুতের চাহিদা। আর সন্ধ্যার পর হাজার হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চার্জে বসানো হয়। এ সব কারণে বর্তমানে বিদ্যুতে ঘাটতি বেড়েছে।

রাজশাহী নগরের ভদ্রা এলাকার বাসিন্দা কুলসুম বেগম জানান, গত তিন দিন থেকে হঠাৎ করেই বিদ্যুত বিভ্রাট বৃদ্ধি পেয়েছে। রমজান মাসে এমন বিদ্যুত বিভ্রাট তাদের জন্য অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একই অভিযোগ কাদিরগঞ্জ এলাকার এক সরকারি কর্মকর্তা। তার দাবি, কয়েকদিন থেকে প্রতিদিন ইফতারের পর প্রায় এক ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। এটা যন্ত্রনাদায়ক। একই ভাবে ২৪ ঘন্টায় কমপক্ষের তিনবার বিদ্যুৎ টাকা হচ্ছে।

নেসকোর তথ্য মতে, রাজশাহী জেলায় চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুতের ঘাটতি প্রায় ৩৬ শতাংশ। আর রাজশাহী বিভাগে এই ঘাটতি পরিমাণ ১৫ শতাংশ। বিদ্যুত ঘাটতি সামাল দিতে নেসকো কর্তৃপক্ষকে দিনের বিভিন্ন সময় এলাকা ভেদে বিদ্যুত সংযোগ বন্ধ রখতে হচ্ছে।

নেসকোর বিতরণ অঞ্চল রাজশাহীর প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ জানান, জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ৯৮ মেগাওয়াট। এই চাহিদার বিপরীতে নেসকো বিদ্যুতের সরবরাহ পাচ্ছে মাত্র ৬৩ মেগাওয়াট। মহানগরীতে বিদ্যুতের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

তিনি আরও জানান, রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলার মধ্যে বগুড়ায় বিদ্যুতের চাহিদা সবচাইতে বেশি। বিভাগের মোট ৪৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলেছে ৩৯০ মেগাওয়াট। চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে সরবরাহের তুলনায় বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজশাহীতে লোড ম্যানেজম্যান্ট করতে হচ্ছে।

অগ্নিবাণী/এফএ

এই সংবাদটি শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Pin on Pinterest
Pinterest

Leave a Reply

Your email address will not be published.