রাজশাহীতে টিটিসির ‘নিরাপদ অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক সভা

নিজস্ব পতিবেদক,  রাজশাহী

‘শতবর্ষে জাতির পিতা, সুবর্ণে স্বাধীনতা। অভিবাসনে আনবো মর্যাদা ও নৈতিকতা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে রাজশাহী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) কর্তৃক আয়োজিত হয় ‘নিরাপদ অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক সভা।

মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) নগরীর রাজশাহী টিটিসির কোরিয়ান কনভেনশন সভাকক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কল্যাণ চৌধুরী। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে সভায় উপস্থিত ছিলেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লসমী চাকমা।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে রাজশাহী টিটিসির অধ্যক্ষ এমএম ইমদাদুল হক বলেন, ‘জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয় নিরাপদ অভিবাসন নিয়ে কাজ করে। তারা বলে থাকেনÑ ‘জেনে বুঝে বিদেশ যান’। কিন্তু আমরা অর্থাৎ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা টিটিসি কাজ করে দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে। আমাদের কথা হচ্ছেÑ ‘দক্ষ হয়ে বিদেশ যান’।’

রাজশাহীতে ‘নিরাপদ অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক সভা অনুষ্ঠিত

তিনি আরও বলেন, আজকের এই সভাটি মূলত জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেউ যদি কর্মের জন্য বিদেশ যেতে চান তবে সে যেনো দালাল চক্রের খপ্পড়ে না পড়েন। দেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তারা যেনো বিদেশে গিয়ে উপার্জন করতে পারেন সেই বিষয়টির ওপর ভিত্তি করেই মূলত প্রচার-প্রচারণামূলক আজকের এই আয়োজন।

সভায় দালাল প্রথার দূরীকরণে সচেতনতামূলক বক্তব্য প্রদান করেন পবা ইউএনও লসমী চাকমা। তিনি বলেন, বর্তমানে সরকার দালালদেরও রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনছেন। এছাড়া জিটুজির মাধ্যমে গ্রিস, সিসিলি ও রোমে জনবল পাঠানোর কথা চলছে। সুতরাং কেউ দালালের খপ্পড়ে পড়ে অবৈধভাবে যেনো সমুদ্র পথে এসব দেশে গিয়ে বিপদগামী হবেন না।

রাজশাহীতে ‘নিরাপদ অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক সভা অনুষ্ঠিত

অপরদিকে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কল্যাণ চৌধুরী বলেন, ইতিমধ্যে সরকার ৪২টি টিটিসি করা হয়েছে, এর মধ্যে বাকি রয়েছে ২২টি। ইতিমধ্যে সরকারিভাবে দালাল সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, প্রতিটি উপজেলায় উন্নত মানের কারিগরি প্রশিক্ষণ দান, ভিসা ও পাসপোর্টের সহজ প্রক্রিয়াকরণ, প্রতিটি উপজেলা থেকে বছরে একহাজার জনবল প্রেরণ, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের পুর্ণবাসন ও বিদেশে থাকা শ্রমিকদের জন্য সার্বিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করেছে সরকার। এছাড়াও সরকার বর্তমানে কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও চাকরির ব্যবস্থা করছেন কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের এবং কারিগরি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। সুতরাং, কেউ বিদেশে গিয়ে উপার্জন করতে চাইলে তাকে অবশ্যই কারিগরি জ্ঞানে দক্ষ হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ মো. শফিকুল ইসলাম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ্উপপরিচালক এটিএম গোলাম মাহবুব, জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল হান্নান, বগুড়া জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আতিকুর রহমানসহ রাজশাহী টিটিসির শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রশিক্ষণার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

অগ্নিবাণী/এফএ

এই সংবাদটি শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on Whatsapp
Whatsapp
Pin on Pinterest
Pinterest

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *