বাস চালুর দাবিতে রাজশাহীতে গণপরিবহন শ্রমিকদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচীর পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহীতে প্রায় হাজার খানেক গণপরিবহণ শ্রমিক বাস চালুর দাবি নিয়ে নগরীর শিরোইল বাস টার্মিনালে বিক্ষোভ করেছে।

আজ রবিবার (০২ মে) সকাল ১০ টায় নগরীর শিরোইল বাস স্ট্যান্ডে এ বিক্ষোভ কর্মসূচী পালিত হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল থেকেই শিরোইল বাস টার্মিনালে দলবেধে পরিবহণ শ্রমিকেরা আসতে থাকে। এতে হাজারো শ্রমিকের ঢল নামে শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায়। এসময় অনতিবিলম্বে তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাস চালুর দাবি জানান।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শাহলাল নামের এক বাসের হেলপার বলেন, ‘দিনের পর দিন লকডাউনে বাস বন্ধ থাকায় আমাদের মরার উপক্রম হয়েছে। বাড়িতে বাবা-মা, বৌ-বাচ্চা নিয়ে কোন রকম খেয়ে না খেয়ে দিন পার করতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের মরণ ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।’

শাহলালের দাবি- ‘সরকারের উচিৎ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাস চালু করুন, নইলে বিকল্প ব্যবস্থা করুন।’

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রাবন্তী বাসের চালক ও শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য সুমন আহম্মেদ জানান, ‘টানা লকডাউনে আমাদের মতন রাজশাহীর প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক বেকার ও অসহায় জীবনযাপন করছে। কোনো ইনকাম না থাকায় এখন এলাকার মুদি দোকানিরাও বাজার সদাই বাকিতে দিচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে আমরা করোনায় নয়, না খেয়েই ধুকে ধুকে মরতে হবে আমাদের। এরচেয়ে ভালো বিক্ষোভ করে রাস্তায় মরা।’

এদিকে রাজশাহী শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরী জানান, কেন্দ্রীয় শ্রমিক ফেডারেশনের কর্মসূচী অনুযায়ী আজ বিক্ষোভ ছিল। সকাল থেকেই বিভিন্ন থানা উপজেলা ও গ্রামগঞ্জ থেকে লোকজন টার্মিনালে এসে উপস্থিত হয়েছে। এখনও লোক আসছে। সবাই শান্ত করে যার যার বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি।

তবে আমরা আগামী ৪ তারিখে শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে রাজশাহী জেলা প্রশাসক বরাবর আমরা স্মারকলিপি দিবো। সেখানে আমাদের ৩টি দাবি আছে- প্রথমত, স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদের পরিবহণ চালাতে দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, মালিকরা আমাদের শ্রমিকদের কোনো নিয়োগ পত্র দেয় না। একারণে সরকার থেকে শ্রমিকদের জন্য দূর্যোগকালীন ও বিভিন্ন ভাতা যেগুলো পাওয়ার কথা তা পাচ্ছি না। তাই প্রত্যেকটা শ্রমিককে নিয়োগপত্র দিতে হবে। তৃতীয়ত, শ্রমিক ইউনিয়নের যে কার্ড আছে, সেই কার্ড দেখে সরকারি বরাদ্দের যে ওএমএস এর চাল দেওয়া হয় তা শ্রমিকদের দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘গত ২ সপ্তাহের মধ্যে আমাদের ৪ জন শ্রমিক মারা গেছে ওষুধ কিনে খেতে না পেরে। এমন আরও শত শত বৃদ্ধ রোগাক্রান্ত শ্রমিক আছেন যারা কোনো রকম এখনো বেচে আছেন। আামাদের ইউনিয়নের পক্ষ থেকে দুদিন একদিন পরপরই চাল, ডাল, মাছ, সবজি দেওয়া হচ্ছে দু’এক দু’এক শ’ শ্রমিক পরিবারকে। কিন্তু এভাবে খুব বেশীদিন সম্ভব নয়।’

রাজশাহী জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের এই নেতার ভাষ্য, ‘আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের ওপর অত্যন্ত সদয়। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের সময় অনেক গাড়ি ঘোড়া চলাকালীন ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছিল। তখন তিনি আমাদের দাবির চেয়েও বেশী ক্ষতিপূরণ দিয়েছিলেন। পরিবহন বন্ধ থাকায় তিনি হয়ত আমাদের শ্রমিকদের অবস্থা সম্পর্কে জানেন না। জানলে অবশ্যই তিনি আমাদের দাবি মেনে নিবেন এবং শ্রমিকদের বাচাতে এগিয়ে আসবেন।’

শ্রমিকদের অসহায় অবস্থার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে শ্রমিকদের এমন অবস্থা যে- তারা না কারো কাছে চাইতে পারছে, না কোনো উপায় খুজে পাচ্ছে। শ্রমিকদের মধ্যে একধরনের চাপা ক্ষোভ বিদ্যমান রয়েছে।’

বাস চালুসহ অন্যান্য দাবি না মানলে তখন কি করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভারত থেকে অহরহ পরিবহন চালু আছে। এছাড়াও দেশে বাজার-ঘাট, ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খোলা। তাহলে আমরা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে কেন বাস চালাতে পারবো না। সরকার যদি আমাদের দাবি না মানেন তবে আমরা কেন্দ্রীয় ফেডারেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী চলবো। তখন কেন্দ্র যা সিদ্ধান্ত নিবে তাই হবে।’

অগ্নিবাণী/এফএ

এই সংবাদটি শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Pin on Pinterest
Pinterest

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *