চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিডি’র চাল বন্টনে অনিয়মের অভিযোগ

সন্তোষ কুমার সাহা , ধামইরহাট
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার ৩নং আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে ভিজিডি’র চাল বন্টনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

ওই ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের রসুলবিল গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের স্ত্রী মোসা. ফরিদা পারভীন বাদী হয়ে বুধবার ৩১ মার্চ ২০২১ বিভাগীয় পরিচালক মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর রাজশাহী, জেলা প্রশাসক নওগাঁ, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ধামইরহাট ও উপজেলা প্রেসক্লাব বরাবর ৩নং আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দায়ের করেন।

অভিযোগকারী মোসা. ফরিদা পারভীন জানান, চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান আমাকে শাসিয়ে বলেন আমাকে এক মাসের চাল দিবেন এবং পরের মাসে আমার নামের চাল অন্যকে দিবেন। অন্যথায় আমার নাম তালিকা থেকে বাদ দেবেন বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেন। আমার নামে আসা ভিজিডির চাল অমাকে না দিয়ে অন্যকে দিলে আমি খাবো কি। স্বামী নেই দুই সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি।

৫নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আবু মুসা অক্ষেপ করে বলেন, অভিযোগকারী ফরিদা পারভীন আমার কাছে এসেছিলেন। তার অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হবার জন্য মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কাছে যাই। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা ভিজিডি কর্মসূচির জন্য উপকার ভোগী মহিলা নিবার্চনের তালিকার চুরান্ত ছক, ভিজিডি চক্র ২০২১-২২ চুরান্ত তালিকায় অভিযোকারী ফরিদা পারভীনের নামসহ জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বারের সংঙ্গে মিল রয়েছে। একজন নবমুসলিম স্বামী হারা অসহায় মহিলার চাল কিভাবে আত্মসাৎ করে তা আমার বোধগম্য নয়।

অভিযোগ পত্রে জানা গেছে, স্বামী হারা দুই সন্তানের জননি ফরিদা পারভীন ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমানের কাছে ভিজিডির চাল সংগ্রহের জন্য গেলে চেয়ারম্যান অনলাইনে একটি আবেদন করার পরামর্শ দেন। চেয়ারম্যানের কথামত একটি আবেদনও করা হয়। তার পর কয়েকবার যাচাই বাছাই শেষে চুরান্ত তালিকায় ফরিদা পারভীনের নাম অনুমোদন দেওয়া হয়। তিন মাস পুর্বে ভিজিডির চাল বন্টনের সময় ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. মোস্তাফিজুর রহমান পিন্টুর নিকট এসে তার নাম তালিকায় লিপিবদ্ধ হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ওই মেম্বার বলেন তোমার নাম তালিকায় নেই।

অভিযোগ পত্রে আরও জানা গেছে, চাল বিতরণের সময় বিতরণকারী ফরিদা পারভীনের নাম ধরে ডাকা ডাকি করেছেন। প্রতিবেশির মারফতে এ বিষয়টি জানার পর চেয়ারম্যানের নিকট গেলে তিনি আমাকে হুমকি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেন। ৫ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. মুসা ঘটনার সত্যতা জানার জন্য বাদী ফরিদা পারভীনকে নিয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে বাদির নাম ৬ নং ওয়ার্ডের কলামে ২ নং তালিকায় লিপিবদ্ধ আছে।
৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. মোস্তাফিজুর রহমান পিন্টু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, চেয়ারম্যান আমাকে যা বলেছেন আমি তাই করেছি। তালিকায় তার নাম দেখেছি কিন্তু তিনিই সেই ফরিদা কিনা তা আমি জানিনা।

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান বলেন, ভিজিডির চাল বন্টনের তালিকা তৈরি করতে গিয়ে অন্য একজনের নাম যোগ হওয়ায় একটু সমস্যা হয়েছে।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, অভিযোগকারী ফরিদা পারভীন ভিজিডির তালিকা ভুক্ত আছেন। এব্যাপারে চেয়ারম্যানের সাথে কথা হয়েছে। তিনি ভিজিডির চাল ওই মহিলাকে দিতে সম্মতি জানিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার গনপতি রায় বলেন, অভিযোগের কপি আমার হাতে এখনও পৌছেনি। অভিযোগ পেলে তা তদন্ত করে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

অগ্নিবাণী/এফএ

এই সংবাদটি শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Pin on Pinterest
Pinterest

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *