রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন!

রাজশাহী প্রতিনিধি
রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগ সভাপতির শোবার ঘর থেকে আটক রাসেল মিয়াকে  (২৮) ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে শুক্রবার  (২২ জানুয়ারি)  দুপুরে রাজশাহী নগরীর উপকণ্ঠ কাটাখালিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কাটাখালি পৌরসভা শাখা ।

ভুক্তভোগী রাসেল জেলার পুঠিয়া উপজেলার পালোপাড়া এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে। তিনি পুঠিয়ার শহীদ মুক্তিযোদ্ধা করম আলী নাতি।

গত ১৩ জানুয়ারি দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিবের বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুঠিয়া থানা পুলিশ। পরদিন এনিয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন হাবিব। ওই মামলায় এখনো কারাবন্দি রাসেল।

মানববন্ধন চলাকালে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন-সংগঠনের পৌরসভা শাখার সভাপতি ওয়ালি আহমেদ নয়ন, সাধারণ সম্পাদক সাগর আলী, উপদেষ্টা তারিক জামিল, ,পবা উপজেলার সাধারণ সম্পাদক নাফিউল নিহাল প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, চাঁদার টাকা না পেয়ে রাসেলকে ব্যাপক নির্যাতনের পর মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। বিয়ে সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এই ঘটনার সূত্রপাত।

এই কাণ্ডে জড়িত  জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব ও পুঠিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর।

এই ঘটনার পর পদ থেকে তাদের অপসারণ দাবি উঠেছে মানববন্ধন থেকে। একই সাথে অবিলম্বে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য রাসেলের মামলা প্রত্যাহার করে তাকে মুক্তির দাবি জানানো হয়।

স্ত্রীর দেনমোহর নিয়ে মামলায় পড়েছিলেন রাসেল। বিষয়টি সমঝোতা করেন জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব ও পুঠিয়া থানা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।

সমঝোতায় রাসেল দেন মোহরের দুই লাখ টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু ছাত্রলীগ নেতা হাবিব ও জাহাঙ্গীর তার কাছে ৬০ হাজার টাকা দাবি করে বসেন। সেই টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হন রাসেল।

গত ১৩ জানুয়ারি রাতে রাসেলকে তুলে নিয়ে গিয়ে ব্যাপক নির্যাতন করেন ছাত্রলীগ নেতা হাবিব। পরে নাটক সাজিয়ে ওই রাতেই পুলিশের হাতে তুলে দেন।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব। তিনি দাবি করেছেন, তার শোবার ঘর থেকে রাসেলকে আটক করা হয়েছে। তিনি ঘাপটি মেরে দাঁড়িয়েছিলেন।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চুরির জন্য প্রবেশের কথা স্বীকার করেন। কিন্তু তার মনে হয়েছে-এর পেছনে ভিন্ন রহস্য আছে।

হাবিব দাবি করেন, তার শোবার ঘর তালাবদ্ধ ছিলো। রাতে বাড়িতে অন্য সদস্যরাও ছিলেন। কিন্তু তারপরও শোবার ঘর অব্দি ওই যুবক কিভাবে গেলেন তা জানাতে পারেননি হাবিব।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Pin on Pinterest
Pinterest

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *