মাদার বখ্শ’র মৃত্যুবার্ষিকীতে রাবিতে দোয়া মাহফিল

রাবি প্রতিনিধি:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের  (রাবি) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মাদার বখ্শ’র ৫৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখ্শ হল প্রশাসনের উদ্যেগে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

দোয়া মাহফিলে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আব্দুল আলিম, আবাসিক শিক্ষক ড. মোকাররম হোসেন, শামীম হোসেনসহ হলের সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

মাদার বখ্শ ১৯০৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন রাজশাহীর নাটোর মহকুমার সিংড়া এলাকার স্থাপনদীঘি নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। সিংড়ার চৌগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯২২ সালে প্রথম শ্রেণীতে ম্যাট্রিক, রাজশাহী কলেজ থেকে ১৯২৪ সালে ইন্টারমিডিয়েট এবং ১৯২৬ সালে বিএ পাস করেন। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৮ সালে ইতিহাসে এমএ এবং প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ১৯২৯ সালে আইন শাস্ত্রে বিএল ডিগ্রি লাভ করেন। নওগাঁ ও মুর্শিদাবাদে দু’বছর শিক্ষকতার পর ১৯৩৪ সালে রাজশাহীতে ফিরে এসে আইন পেশা ও সমাজসেবায় মনোনিবেশ করেন।

দরিদ্র ও অসহায়দের পক্ষে বিনা সম্মানীতে মামলা লড়ার কারণে সুখ্যাতি লাভ করেন মাদার বখ্শ। চল্লিশের দশকের শুরুতে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে রাজশাহীর (আত্রাই, বাগমারা ও মান্দা) প্রতিনিধি হিসেবে ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলার বঙ্গীয় আইন পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৪৭ থেকে ’৫৪ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান আইন পরিষদের সদস্য এবং ১৯৫০ থেকে ’৫৪ সাল পর্যন্ত রাজশাহী পৌরসভার (বর্তমানে সিটি কর্পোরেশন) প্রথম নির্বাচিত পৌর চেয়ারম্যান ছিলেন।

মুসলিম লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তিনি রাজশাহীতে ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের মিছিলে গুলিবর্ষণের ঘটনায় ২২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী ভুবনমোহন পার্কে সমাবেশের অন্যতম আয়োজক ও প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তৃতা করেন তিনি। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগের তিনিই একমাত্র এমএলএ, যিনি ভাষা আন্দোলনে গুলি ও খুনের ঘটনায় নিজদলীয় নুরুল আমিন সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করার দায়ে কারাবরণ করেছিলেন।

পরবর্তী সময়ে তিনি মুসলিম লীগের প্রতি বিরক্ত হয়ে রাজনীতি ছেড়ে শিক্ষা বিস্তারে মনোনিবেশ করেন। রাজশাহীসহ উত্তরবঙ্গে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তিনি শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায়ই ভূমিকা রাখেননি, প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষিত ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে সম্পৃক্তদের এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যুক্ত করেন। তিনি নিজেও আইন বিভাগের অবৈতনিক শিক্ষক ছিলেন। বঙ্গবন্ধু সরকার মরহুম মাদার বখ্শের সম্মানার্থে ১৯৭৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্মিত একটি আবাসিক ছাত্র হলের নামকরণ করে ‘মাদার বখ্শ হল’।

রাজশাহী শহরের জিরো পয়েন্ট থেকে আদালত পর্যন্ত সড়কের নাম ‘মাদার বখশ সড়ক’ নামকরণ করে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন। রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের একটি ছাত্রাবাস মাদার বখ্শের নামে রাখা হয়। তার জন্মস্থান স্থাপনদীঘি গ্রামের প্রবেশপথে ভাষাসৈনিক মাদার বখশ গেট তৈরি করেছেন তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি। সিংড়া পেট্রল পাম্পসংলগ্ন ব্রিজটির নামও মাদার বখ্শের নামে রাখা হয়েছে। নাটোরে মাদার বখ্শ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রাজশাহীতেও তার নামে রয়েছে মাদার বখ্শ আইডিয়াল স্কুল।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Pin on Pinterest
Pinterest

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *