সারাদেশে ৩৫ কোটি বই পাচ্ছে সাড়ে ৪ কোটি শিক্ষার্থী

অনলাইন ডেস্ক

করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পয়লা জানুয়ারি বই উৎসব না হলেও বছরের শুরুতেই সাড়ে সাড়ে চার কোটি শিক্ষার্থী বিনামূল্যে বই পাচ্ছে। ছাপা হচ্ছে প্রায় ৩৫ কোটি বই। এবার ৩১ ডিসেম্বর সকালে প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে বই বিতরণ কোভিডের কারণে ভার্চ্যুয়ালি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

আজ (২৭ ডিসেম্বর) জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বাসসকে জানান, প্রতিবছর গণভবনে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

তিনি বলেন, এবার প্রায় ৩৫ কোটি বই ছাপা হচ্ছে। মুদ্রণের কাজ শেষ পর্যায়ে। প্রায় সাড়ে ৪ কোটি শিক্ষার্থী বিনামূল্যে এই বই পাবে। এদিনই স্বাস্থবিধি মেনে সেগুনবাগিচাস্থ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে মন্ত্রী ও সচিবদের উপস্থিতিতে কয়েকজন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দিয়ে বই বিতরণের উদ্বোধন করবেন তিনি। পরের দিন ১ জানুয়ারি সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় শিক্ষার্থীদের নতুন বই বিতরণ করা হবে।

নারায়ন চন্দ্র বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে এবার বইয়ের প্রচ্ছদে নতুনত্ব আনা হয়েছে। পাঠ্যপুস্তকের পিছনের(ব্যাক পেজ) মলাটে বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা, মহান মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলনসহ বর্তমান সরকারের নানা উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের বিভিন্ন স্থিরচিত্র ক্যাপশনসহ সংযোজন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অন্যদিকে সকল পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণকাজ শেষপর্যায়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রাথমিকের শতভাগ বই চলে গেছে এবং মাধ্যমিকের বই ৮৫ শতাংশেরও বেশি মুদ্রণ করতে পেরেছি এবং সরবারহের কাজ চলছে। এরমধ্যে প্রাক-প্রাথমিক, ব্রেইল পদ্ধতির বই ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের বইও রয়েছে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সারাদেশে সব বই পাঠানোর জোর চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, ‘তবে এটা বলা যেতেই পারে, এবারো কোনো শ্রেণি বই শূন্য যাবে না। অষ্টম বা নবম শ্রেণির কোন শিক্ষার্থীর ১৫ থেকে ১৬ টা বইয়ের মধ্যে হয়তো দু’একটা কম যেতে পারে। কারণ হলো ৩০ ডিসেম্বর যে বইটা মুদ্রিত হবে তা পৌছাতে হয়তো কয়েকদিন লেগে যেতে পারে। সে কারণে বলা যায়, সব শিক্ষার্থীই সঠিক সময়ে বই পাবে। ’

নারায়ন চন্দ্র আরো বলেন, ‘বর্তমান সরকারের যে ধারাবাহিক সফলতা আমরা ধারণ করি, সেই কাজগুলো করে যাচ্ছি। চেষ্টা করছি কোভিডের কারণে যে সময়টুকু নষ্ট হয়েছে, সেটার কারণেও যেন আমরা পিছিয়ে না পড়ি, সেভাবেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ২০২১ এর ১ জানুয়ারি দেশের সব শিক্ষার্থীর হাতে বই যাবে। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আগামী বছরে সর্বমোট পাঠ্যপুস্তকের সংখ্যা ১০ কোটি ২৫ লাখ ৮২ হাজার ৫৫৫টি। এর মধ্যে প্রথম-দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর জন্য ২ কোটি ৫৯ লাখ ৯২ হাজার ৬৭১ টি বই, তৃতীয়-চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর জন্য ৬ কোটি ৯৬ লাখ, ৯৭ হাজার ৩৭৪ টি। এর মধ্যে ৯৪ হাজার ২৭৫ জন ক্ষুদ্র নৃÑগোষ্ঠীর (চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও সাদ্রী ) শিশুদের জন্য পাঁচটি ভাষায় প্রাক-প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার ২৮৮ টি বিশেষ ভাষায় বই বিতরণ করা হবে। তবে, তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তাদের ভাষায় শুধুমাত্র বাংলা বইটি পাবে। এবছর সাঁওতাল ভাষায় পাঠ্যপুস্তক দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এবার ৯ হাজার ১৯৬ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর জন্য ব্রেইল পদ্ধতির বই বিতরণ করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য ২৪ কোটি ৩৩ লাখ ৩৪ হাজার কপি বই মুদ্রণ করার কাজ চলমান রয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক সৈয়দ গোলাম ফারুক বাসসকে জানান,শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার কথা চিন্তা করেই করোনা ভাইরাসের কারণে গত মার্চ থেকে সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি এতো প্রতিকূলতার মধ্যেও সারাদেশের শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো নতুন বছরের বই তুলে দিতে।
এসময় করোনা ভাইরাসের কথা চিন্তা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই আদান-প্রদানের সময় স্বাস্থবিধি মেনে চলার জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মহাপরিচালক আরো জানান, ‘আমরা চেষ্টা করবো আগামী বছরের শুরু থেকে যেন শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠুভাবে তাদের শিক্ষাকার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে। নতুন বই পেয়েই তারা তাদের পাঠ্যক্রম অনুযায়ী পড়াশুনা করতে পারে। চলতি বছরের শিক্ষার অভিজ্ঞতা নিয়ে সামনের নতুন বছরে যেন আরো ভালভাবে পড়ালেখা চালানোর চেষ্টা করে।
তিনি বলেন, এ বছর শিক্ষাক্ষেত্রে গ্যাপ রয়েছে বলে অনেকে জানিয়েছেন, যে গ্যাপগুলো রয়েছে তা চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। চলমান অ্যাসাইমেন্টের মাধ্যমে তা নির্ধারণ ও চিহ্নিত করে সামনের বছরে পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। যেন শিক্ষার্থীদের কোন ক্ষতি না হয়।

উল্লেখ্য, শিক্ষাকে মানসম্মত করার লক্ষ্যে এবং ঝরে পড়ার হার রোধ করতে ২০১০ সাল থেকে আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিবছর ১ জানুয়ারি উৎসবমুখর পরিবেশে ‘বই উৎসব’ করে আসছে। এবার বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের কারণে বই উৎসব করা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীরা নতুন বইয়ের গন্ধ পাবে। গত ২০১০ সাল থেকে চলতি বছর (২০২০ সাল) পর্যন্ত এই দশবছরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক মিলিয়ে প্রায় ৩৩১ কোটি ৪৭ লাখ বই সারাদেশে বিতরণ করা হয়েছে। সূত্র: সময়ের আলো

এই সংবাদটি শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Pin on Pinterest
Pinterest

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *