প্রবীণ আ.লীগ নেতাকে ‘মাইনাস’ করার চেষ্টা পৌর মেয়রের

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজশাহীর কাঁকনহাট পৌরসভায় সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য একেএম আতাউর রহমান খান। অভিযোগ উঠেছে, দলীয় মনোনয়ন থেকে তাকে ‘মাইনাস’ করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির সুপারিশ নিয়ে তিনি মনোনায়ন ফরম জমা দিয়েছেন দলীয় প্রধানের কার্যালয়ে।

মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) ঢাকায় নির্বাচনী বোর্ডের কাছে নিজের মনোনায়ন ফরম জমা দেয়ার কথা জানিয়েছেন প্রবীন আ.লীগ নেতা একেএম আতাউর রহমান খান।

তিনি বলেন, পৌরসভার অর্ধেকের এলাকা অংশ যে ইউনিয়নের অংশ ছিলো তিনি সেই ইউনিয়নের তিন বারের চেয়ারম্যান। এলাকার মানুষ তাকে মেয়র হিসেবে চাইছেন। আগে থেকেই তিনি মেয়র প্রার্থী হিসেবে জনসংযোগ চালাচ্ছিলেন তিনি।

তার অভিযোগ, নিশ্চিত প্রতিদ্বন্দ্বী জেনে তাকে ‘মাইনাস’ করার চেষ্টা করেছেন পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মজিদ। বিষয়টি তিনি লিখিতভাবে জেলা সভাপতিকে জানান। তিনি শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাশি হিসেবে সুপারিশ করেছেন। জেলার সুপারিশ নিয়ে তিনি মনোনায়ন ফরম মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দলীয় মনোনয়ন বোর্ডে জমা দিয়েছেন।

মেয়র তাকে ‘মাইনাস’ করছেন কেনো? এমন প্রশ্নের জবাবে কে এম আতাউর রহমান খান বলেন, তিনি (মেয়র) অত্যন্ত লোভী। দীর্ঘদিন ধরে মেয়রের চেয়ারে থেকে তিনি নানান অনিয়ম-অপকর্ম করেছেন। নিরীহ গ্রামবাসী ভয়ে তার অনিয়ম-অপকর্ম নিয়ে মুখ খুলতে পারেন না। অবৈধ উপার্জনের অর্থ দিয়ে তিনি মডারেট আ.লীগার হয়েছেন। আর সেই অর্থ বিভিন্ন জায়গায় উপঢৌকন হিসেবে দিয়ে বড় বড় রাজনৈতিক নেতা থেকে সকলের মুখ বন্ধ করছেন।

তিনি বলেন, পাশ্ববর্তী ইউনিয়নের তিন বারের চেয়ারম্যান থাকাকালে মেয়রের অপর্কমের একমাত্র প্রতিবাদকারী ছিলাম আমি। আর এ কারণেই আমাকে ‘মাইনাস’ করার চেষ্টা করেছেন মেয়র। পুরো বিষয়টি স্থানীয় এমপির ‘খেল’ দাবি করেন একেএম আতাউর রহমান।

পৌর নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্র বলছে, মেয়র পদে এবারো আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী পৌর মেয়র আবদুল মজিদ। কিন্তু নানান অপর্কমে মানুষের আস্থা হারিয়েছেন মেয়র। প্রার্থী হিসেবে ত্যাগী ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা একেএম আতাউর রহমান খানের বিকল্প নেই। বংশীয়ভাবে শতাধিক বিঘা জমির মালিক ছিলেন তিনি। কিন্তু রাজনীতি ও সমাজসেবা করতে গিয়ে হারিয়ে ফেলেছেন অর্ধেকেরও বেশী ধন-সম্পদ। তারপরও তিনি অপরানীতির স্বীকার।

তাদের ভাষ্য, আতাউর রহমানকে মাইনাস করার চেষ্টা চালাচ্ছেন মেয়র আবদুল মজিদ। এর আগে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল্লাহীল কাফি মেয়র পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামলে তাকে নানান কায়দায় নাজেহাল করেন মেয়র।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০০২ সালে পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর প্রশাসকের দায়িত্বপালন করেন আবদুল মজিদ। এর পরের তিনটি নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ , মেয়র আবদুল মজিদকে পৌরসভায় নিয়মিত পাওয়া যায়না। তিনি ঢাকায় থাকেন মাসের অধিকাংশ সময়। বাস্তবে নেই, তিনি কাজ করছেন কাগজে কলমে। প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে রয়েছে অর্থ লোপাটের বিস্তর অভিযোগ। এ নিয়ে মেয়র বিরোধে জড়িয়েছেন খোদ কাউন্সিলরদের সাথে। একাধিক অভিযোগও জমা পড়েছে দুদকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে। তবুও মেয়র মজিদ রয়ে গেছেন বহাল তবিয়তে।

কাঁকনহাট পৌরসভার তিন মেয়াদের কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গোলাম মর্তুজা শেখ বলেন, কাঁকনহাট পৌরসভা গঠনের সময় আবদুল মজিদ ছিলেন গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি। ওই পদে থেকেই তিনি পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব পান।

২০০৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম নির্বাচন হয়। বিএনপির প্রার্থী হয়ে আবদুল মজিদ মেয়র নির্বাচিত হন। ক্ষমতার পালাবদলে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে ২০১১ সালে আবারও মেয়রের হন আবদুল মজিদ। সর্বশেষ ২০১৫ সালের নির্বাচনেও নৌকার প্রার্থী হয়ে মেয়র নির্বাচিত হন তিনি।

কাউন্সিলর গোলাম মর্তুজা শেখ আরো বলেন, তিনি তিন মেয়াদে কাউন্সিলরের দায়িত্বপালনকালে তিনি কাছে থেকে মেয়র আবদুল মজিদের অনিয়ম-অপকর্ম দেখেছেন। অনিয়ম করেই তিনি সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। বরাবরই দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা তার প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। যাকেই প্রতিদ্বন্দ্বি ভেবেছেন, তাকেই কায়দা করে সরিয়ে দিয়েছেন।

সর্বশেষ তিনি প্রতিদ্বন্দ্বি ভেবে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা একেএম আতাউর রহমান খানকে সারানোর চেষ্টা করেন। অথচ দলের জন্য একেএম আতাউর রহমান খানের অবদান অনেক। অনুপ্রবেশকারীর হাতে ত্যাগী নেতার এমন অপদস্ত মেনে নেয়া যায়না।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মজিদ বলেন, পৌর আওয়ামী লীগ সভা করে দলীয় প্রার্থী বাছাই করেছে। তিনিসহ তিন জন দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। প্রক্রিয়া মেনেই এই তিন জনের নামের তালিকা কেন্দ্রে গেছে। কাউকে বাদ দেয়া হয়নি।

তিনি আবারো মেয়র হবেন দাবি করে বলেন, জনপ্রিয়তা থাকায় তিনি এতোদিন মেয়রের চেয়ারে। তাছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য তাকে চান। জেলা আওয়ামী লীগও তার পক্ষে। নির্বাচন সামনে তাই তাকে হেনস্তা করতে বিরোধীরা এমন অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে দাবি করেন মেয়র আবদুল মজিদ।

জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেরাজ উদ্দিন মোল্লা জানান, নিজেরসহ তিন জনের নামের তালিকা নিয়ে পৌর মেয়র আবদুল মজিদ তার কাছে এসেছিলেন। সাথে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারাও ছিলেন। চাপে পড়ে তিনি ওই তিন জনকে সুপারিশ দিতে বাধ্য হয়েছেন।

তিনি স্বীকার করেন, কাঁকনহাটসহ বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর কমিটি অননুমোদিত। নেতারা ইচ্ছেমত কাজ করছেন। জেলার নির্দেশ মানছেননা। তিনি এনিয়ে চরম বেকায়দায় আছেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on Whatsapp
Whatsapp
Pin on Pinterest
Pinterest

Leave a Reply

Your email address will not be published.