নওগাঁয় কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি, নষ্ট হয়েছে ফসল

এবাদুল হক, নওগাঁ প্রতিনিধি 

নওগাঁয় ছোট যমুনা ও আত্রাই নদীসহ অন্যান্য নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ছয়টি পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি নামতে শুরু করলেও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানির নিচে আউশের পাকা ধান ডুবে থাকায় চারা গজিয়েছে। কৃষকরা ধান কাটা-মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। আধাপাকা ধানে কাঙ্খিত ফসল পাওয়া থেকেও বঞ্চিত হতে হচ্ছে তারা। এছাড়া মাঠ থেকে নামতে দেরী দেরী হওয়া এবং বন্যা ও বৃষ্টিতে রবিশস্য রোপনে বিলম্ব হচ্ছে।

উজান থেকে নেমে আসা পানি এবং গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষনে জেলার নওগাঁ ছোট যমুনা নদী, আত্রাই নদীসহ কয়েকটি নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। গত জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে জেলার আত্রাই ও মান্দা উপজেলার পাঁচটি স্থানে আত্রাই নদীর বেড়ীবাধ ভেঙে যাওয়ায় ওই ভাঙা স্থান দিয়ে আবারও পানি প্রবেশ করে। এতে ওই দুই উপজেলার প্রায় ৫০-৬০ টি গ্রাম পাøবিত হয়ে প্রায় ৫০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে।

নওগাঁয় কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি, নষ্ট হয়েছে ফসল

পানির নিচে আধাপাকা ধান তলিয়ে আছে। জেলার মান্দা উপজেলার কাশোপাড়া মাঠে ধান তলিয়ে থাকায় এবং শ্রমিক সংকটের কারণে ধান গাছ চারা গজিয়েছে। এছাড়াও কোথাও কোথাও আধাপাকা ধান পানির নিচ থেকে কাটতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। এতে ধানের ফলন কম হচ্ছে বলে জানান তারা। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আধাপাকা ধান কাটা মাড়াই ও শুকানো নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

মান্দার কাশোপাড়া গ্রামের কৃষক সাহেব প্রামাণিক বলেন, তিন বিঘা জমিতে ২১ জাতের আউশ ধানের আবাদ করেছেন। আগামী ১৫/২০ দিনের মধ্যে পেকে যেত। কিন্তু হঠাৎ বন্যার কারনে ধানগুলো পানির নিচে তলিয়ে যায়। পানির নিচে ধান থাকায় ধানে চারা গজিয়েছে। শ্রমিকরা এক কোমর পানির নিচ থেকে ধান কাটছে।

কৃষক জাহিদুর রহমান বলেন, হঠাৎ করেই বন্যা হওয়ায় শ্রমিক সংকটে পড়তে হয়। তারপরও অন্য এলাকা থেকে শ্রমিকরা এসে ধান কাটছে। আধাপাকা ধান কাটায় বিঘাতে ১২-১৪ মন ফসল পাওয়া যাবে। ধান কাটার পর রাস্তায় শুকাতে হচ্ছে। মাঝে মধ্যে বৃষ্টিও হচ্ছে।

নওগাঁয় কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি, নষ্ট হয়েছে ফসল

নাপিতপাড়া গ্রামের কৃষক অপিল বলেন, আষাড় মাসে ভাদ্র (আউশ ধান) মাসে ধান লাগানোর কিছুদিন পর বানের পানিতে ভেসে যায়। পানি নেমে যাওয়ার পর আবারও হাল চাষ করে জমি রোপন করা হয়। ধান লাগানোর মাসখানেকের মধ্যে বন্যা এসে সবকিছু নষ্ট করে দেয়। এতে করে তার দুই বিঘা জমিতে প্রায় ৭-৮ হাজার টাকা মতো ক্ষতি হয়েছে। এভাবে বৃষ্টি হতে থাকলে রবিশস্য রোপন করাও বিলম্ব হবে।

নওগাঁ জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শামসুল ওয়াদুদ বলেন, জেলায় ৬ হাজার ৭২৭ হেক্টর রোপা-আমন ও শাক-সবজি বন্যার পানিতে নিম্মজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে রোপা-আমন ৬ হাজার ৬১৬ হেক্টর ও শাক-সবজি ১১১ হেক্টর। এছাড়া সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ উপজেলা আত্রাইয়ে ২ হাজার ১৮০ হেক্টর, মান্দায় ১ হাজার ৭২৫ হেক্টর ও রানীনগরে ৯২০ হেক্টর।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Pin on Pinterest
Pinterest

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *