প্রবল বর্ষণে আবারও তলিয়েছে বাগমারা; বিপাকে গ্রামীণ জন-জীবন!

মো. সাইফুল ইসলাম, বাগমারা

প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় রাজশাহী বাগমারা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ভবানীগঞ্জ পৌর সভার কয়েকটি অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অনাকাঙ্খিত বর্ষণে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতিও হয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে প্রবল বর্ষন  সেই সাথে বিভিন্ন দিক থেকে আসা প্রবাহিত হয়ে আসা পানি ফকিরাণীর নদীতে এসে পড়ায় বাগমারায় গ্রামীন জন-জীবন দিশেহারা। ফকিরানি নদীর পানি বিপদ সিমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হবার কারনে পুনরায় বাগমারা উপজেলার প্রায় ইউনিয়ন বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

বন্যা কবলিত ইউনিয়নগুলো হলো, গোবিন্দপাড়া, নরদাশ, সোনাডাঙ্গা, দ্বীপপুর, কাচারি কোয়ালিপাড়া, বড়বিহানলী, ঝিকরা, গনিপুর, বাসুপাড়া,আউচপাড়া,শুভডাঙ্গা ও ভবানীগঞ্জ পৌরসভার কয়েকটি পাড়ায় ,আবারো বন্যার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রভাহিত হচ্ছে।

তবে বড় বিহানলি, কাচারী কোয়ালিপাড়া, ঝিকরা, দ্বীপপুর, সোনাডাঙ্গা,নরদাশ, গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে বন্যার পানি ঢুকে হাজার হাজার মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। ভেসে গেছে শত শত পুকুর ও বিলের মাছ, পান বরজ,সবজি ক্ষেত, আউশ ও আমনধান,রাস্তা ঘাট,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গরু ও মুরগির খামার ,শত শত বাড়িঘর তলিয়ে গেছে আবারো অসময় বন্যার পনিতে, চরম বিপদ ও আতংকের মধ্যে আছে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ। অনেক পরিবার বাড়ি ঘর ছেড়ে নিকটস্থ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠা ও বিভিন্ন উচু জায়গায় আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছে।

সরজমিনে গিয়ে, দ্বীপপুর, কাচারি কোয়ালিপাড়া, বড়বিহানলি,ঝিকরা, সোনাডাঙ্গা, নরদাশ, গোবিন্দপাড়ার ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের লোক জনের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় আড়াই মাস আগের বন্যার মতোই বন্যা হয়েছে এবং বন্যার পানির ব্যাপক অবনতির আশংকা করছে, তারা আরো বলেন দু এক দিনের মধ্যে বন্যার পানির উন্নতি না হলে ১৯৯৫ ও ৯৮ সালের বন্যার চাইতেও ভয়াবহ ধরনের বন্যার আশংকা করছে এলাকাবাসী।

এদিকে প্রবল বর্ষনের ফলে নদী ও বিলের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাবার কারনে এবং কিছু স্বার্থনেশী মহল ব্রিজ কালভেটের মুখ বন্ধ করে মাছ চাষ করার কারনে সঠিক ভাবে পানি নিষ্কাশন ও প্রবাহিত হতে না পারায়, আউচপাড়া, গোবিন্দপাড়া, শুভডাঙ্গা,বাসুপাড়া,গনিপুর,নরদাশ ইউনিয়নের শত শত পান বরজ, সবজিক্ষেত,পুকুর,মুরগির খামার পানির নিচে তলিয়ে গেছে, পানবরজ মালিকেরা বরজের চারিদিকে পলিথিন ও মাটি দিয়ে বাঁধদিয়ে স্যালো মেশিন দিয়ে পানি সেচ করেও শেষ রক্ষা করতে পারে নাই। ফলে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির আশংকা করছে এলাকাবাসী।

প্রবল বর্ষণে আবারও তলিয়েছে বাগমারা; বিপাকে গ্রামীণ জন-জীবন!

দ্বীপপুর ইউনিয়নের নানসর গ্রামের বিশিষ্ট কিটনাশক ব্যবসায়ীর মতিউর রহমান বলেন, প্রায় আড়াই মাস আগে ফকিরাণী নদী রক্ষা বাঁধ লাউবাড়িয়া ও মিরপুর গ্রামের মাঝখানে শ্মশানঘাটের কাছে পানির চাপে বাঁধ ভেঙ্গে দ্বীপপুর ইউনিয়নের প্রায় সব গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে যায় ফলে এলাকার লোকজন অর্থনৈতিক ভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। কাচারি কোয়ালিপাড়া ইউনিয়নের জাঙ্গালপাড়া গ্রামের ব্যাংকার রেজাউল ইসলাম বলেন এর আগে যে বন্যা হয়েছিল তার চাইতেও পানি বেশী হয়েছে, বন্যার উন্নতি না হলে স্বরনকালের বন্যা হওয়ার আশংকা করছেন।

এদিকে নরদাশ ইউনিয়নের মনোপাড়া গ্রামের মুরগির খামারি ইয়ানুছ ও জব্বার বলেন, আমারদের মুরগির সবেমাত্র ডিম পাড়া শুরু করেছে এই খামার যদি বন্যার পানিতে ডুবে যায় তাহলে আমরা নিংস্ব হয়ে যাবো ধারদেনা করে এই খামার করেছি। তারা আরো বলেন খামার রক্ষার জন্য খামারের চারী ধার মাটি ও পলিথিন দিয়ে বেঁধে ভুটভুটি মেশিন দিয়ে পানি সেচ করে খামার রক্ষার চেষ্টা করছি।

শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের ধামিনকৌড় গ্রামের সাবেক মেম্বার দিলদার বলেন,তার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের নিমা বিলের চারিধারের গ্রামের শতশত পানবরজ পানির নিচে তলিয়ে কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে, এছাড়াও পুকুর, বিল, মুরগির খামার, সবজিক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই বিষয়ে বাগমারা ৪ আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মানিত সভাপতি ইন্জিনিয়ার এনামুল হক এমপি বলেন বাগমারা উপজেলার বন্যার ভয়াবহতা সম্পর্কেে শুনেছেন এবং নিয়মিত খোজখবর নিচ্ছেন এবং তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাা,পানি উন্ননয়ন বোর্ডের কর্মমকর্তা ও ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দিয়েছেন বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের পাশে দাড়ানোর জন্য ।

এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফ আহম্মেদ বলেন প্রবল বর্ষনে দ্বিতীয় বার বন্যার সৃষ্টি হয়েছে তবে বর্ষন থেমে গেলে বন্যার উন্নতি হবে বলে আশা করছেন, তিনি আরো বলেন বন্যা কবলিত ইউনিয়ের চেয়ারম্যানের মধ্যমে তালিকা করে এবং সরজমিনে গিয়ে পরিদর্শন করে বন্যা কবলিত এলাকায় সরকারী ভাবে সাহায্য সহযোগীতা করার আশ্বাস দেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Pin on Pinterest
Pinterest

Leave a Reply

Your email address will not be published.