জেনে নিন- দাম্পত্য জীবনে কলহ ও অসুখী হওয়ার লক্ষণসমূহ

অগ্নিবাণী ডেস্ক

বৈবাহিক বা দাম্পত্য সম্পর্কের স্থায়ীত্ব নির্ভর করে মূলত শারীরিক ও মানসিক ঘনিষ্ঠতার মিথস্ক্রিয়ার ওপর। যখন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এই ঘনিষ্ঠতা বা নিজেদের আন্তরিকতার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায় তখন সম্পর্ক টেকানো মুশকিল হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে যৌন সম্পর্ক একটি মুখ্য বিষয়। দাম্পত্য জীবনে যৌন সম্পর্কের মিথস্ক্রিয়া যে স্বামী-স্ত্রীর যতবেশী, তাদের সাংসারিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ ততবেশী লক্ষণীয়। কারণ হিসেবে বলা যায়, দাম্পত্য জীবনের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের খুবই কাছে আশে। আর সেখান থেকেই তাদের মনের ভেতরকার অব্যক্ত কথা ব্যক্ত করে নিদ্বিধায়। যৌন সময়ের পূর্ববর্তী বা পরবর্তী সময়ে তারা নিবিড় সময় যাপনের মাধ্যমে নিজেদের মনের ভাবের আদান-প্রদানের মাধ্যমে দূর করতে পারে না প্রকারের জটিলতা যা অন্য কোনো স্বাভাবিক সময়ে ততটা কার্যকরী নয়।

কিন্তু কোনো কোনো সম্পর্ক এক পর্যায়ে গতিহীন ও দূর্বল হয়ে পড়ে। যার বড় কারণ হচ্ছে- নিজেদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা, আন্তরিকতা এবং শারীরিক-মানসিক ঘনিষ্ঠতার অভাব।

এমন অনেক সময় রয়েছে যখন দীর্ঘদিন একে অপরের সঙ্গে থাকার পরেও ধীরে ধীরে একটি প্রেমহীন সম্পর্কের মধ্যে রূপান্তরিত হতে শুরু করে। কখনো কখনো, এর গতি এত ধীর হয় যে আপনার জীবন বিষাদময় হয়ে উঠে। যদি আপনি আপনার সঙ্গিনীর সঙ্গে ভালো সময় কাটানো বা মজা করা থেকে বিরত থাকেন তবে আপনি বুঝতেও পারবেন না যে আপনাদের মধ্যে দূরত্ব কতটুকু সৃষ্টি হয়েছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া প্রকাশ করেছে এমন কিছু লক্ষণের কথা, যা দেখে বোঝা যাবে আপনার দাম্পত্য জীবন অসুখি হতে চলেছে-

মানসিক এবং শারীরিক ঘনিষ্ঠতার অভাব : মানসিক এবং শারীরিক ঘনিষ্ঠতার সংমিশ্রণই বিয়ের সম্পর্ককে রোমান্টিক করে তোলে। যখন উভয় জিনিস অনুপস্থিত থাকে তখন আপনি অসন্তুষ্ট বোধ করবেন, এটাই স্বাভাবিক। তাই আপনাদের ভেতর শারীরিক ও মানসিক সম্পর্ক যথাযথ আছে কি-না তা খেয়াল করে দেখুন। দু’জনের প্রচেষ্টায়ই একটি সুন্দর দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব।

আপনি বিবাহবিচ্ছেদ সম্পর্কে ভাবছেন : আপনি যদি এমনটা ভেবে থাকেন যে অন্য কাউকে বিয়ে করলে ভালো হতো বা সিঙ্গেল হওয়ার পরিকল্পনা করেন, তবে তা অবশ্যই চিন্তার বিষয়। আপনার বাস্তব বিবাহিত জীবনের সাথে একটি কাল্পনিক জীবনের তুলনা করা স্বাভাবিক। তবে আপনি যদি অন্য কারও সাথে বিবাহিত হওয়ার কথা কল্পনা করে থাকেন তবে এটি এমন একটি লক্ষণ, যা আপনার স্বামী/স্ত্রীর প্রতি অনুভূতিহীনতার প্রকাশ করে।

সব সময় একা লাগে : দু’জন পাশাপাশি একই খাটে বসে আছেন হয়তো, কিন্তু আপনি একে অপরের সাথে নয় বরং বিভিন্ন কাজ করে সময় ব্যয় করছেন। এমনটা যদি বেশিরভাগ সময় ঘটে থাকে তবে এটি একটি চিহ্ন যে, আপনাদের দুজনের সম্পর্ক আর শক্ত অবস্থানে নেই।

কোনো আনন্দ অবশিষ্ট নেই : বিয়ে দু’জনের জন্য আনন্দদায়ক হয় যদি তারা একসাথে মজা করতে জানে। তারা অবিচ্ছিন্নভাবে একে অপরের সাথে এমন কাজ করে যা বৈবাহিক সম্পর্ককে আনন্দময় করে রাখে। তবে যদি আপনাদের মধ্যে আরও বেশি মতবিরোধ হয় এবং আপনাকে বারবার বড় আপস করতে হয় তবে এর অর্থ- দুজনই নড়বড়ে জায়গায় আছেন। বিয়ের আর কোনো আনন্দ বাকি নেই এবং আপনি কীভাবে এটি সুন্দর রাখতে পারবেন তা আর জানেন না।

কথায় মোটেই যুক্তি নেই : প্রতিটি কথোপকথনেই যুক্তি খোঁজা একেবারেই যুক্তি না দেয়া, উভয়ই একটি অসুখি দাম্পত্যের লক্ষণ। আপনি এবং আপনার সঙ্গী যদি একে অপরের সাথে আলোচনা না করে বরং এড়িয়ে চলেন, যুক্তিহীন বিষয়গুলো সামনে এনে তর্ক করেন তবে বুঝে নেবেন, আপনাদের সম্পর্ক আর আগের অবস্থানে নেই।

যেকোনো একজন সম্পর্ক রক্ষা করে চলছেন : সুস্থ সম্পর্কের ক্ষেত্রেও দু’জনের মধ্যে তর্ক হতে পারে। সব বিষয়েই সঙ্গীর মতামতের সাথে একমত হওয়াও ঠিক নয়। ভালো শ্রোতা হওয়া উত্তম। তবে আপনি বা আপনার সঙ্গী যদি সবসময় অপরজনের পছন্দগুলো মেনে নেন, সেটিও দাম্পত্যকে অসুখী করে তুলতে পারে।

অন্য কারো প্রতি আকৃষ্ট হলে : নতুন বা সুখি দাম্পত্য জীবনে দুটি মানুষ একে অপরের সঙ্গী হবেন এবং অন্য কাউকে কাছে ঘেঁষতে দেবেন না। তবে একটি অসুখি দাম্পত্য জীবনে, এই বিষয়টি ম্লান হয়ে যায়। আপনি যদি কাউকে আপনার সঙ্গীর চেয়ে আরও আকর্ষণীয় মনে করেন তবে তা সম্পর্ক নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on Whatsapp
Whatsapp
Pin on Pinterest
Pinterest

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *