রাজশাহীতে ব্যাংক থেকে খোয়া যাওয়া টাকা উদ্ধার হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক

অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের রাজশাহীর সাহেববাজার এলাকার কর্পোরেট শাখায় জমা দেয়ার সময় চুরি হওয়া ১৭ লাখ টাকা উদ্ধার হয়নি। তবে পুলিশ বলছে, টাকা উদ্ধার হবেই।

সোমবার দুপুরে ব্যাংকে জমা দেয়ার সময় রাজশাহীর মেসার্স সরদার পেট্রোলিয়াম এজেন্সির ম্যানেজার মাহফুজুর রহমান রিপন টাকাগুলো জমা দিতে এসেছিলেন। তিনি যখন ভাউচার লিখছিলেন তখন পাশে থাকা ব্যাগ চুরি হয়ে যায় বলে তিনি দাবি করছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।

পুলিশ বলছে, টাকাগুলোর মালিকের নাম রবিউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। তিনি রেলের তেল চুরি মামলায় পলাতক। তার টাকা আত্মসাত করতেই চুরির নাটক সাজানো হয়েছে। তবে রিপনকে সন্দেহ করছেন না রবিউলের পরিবারের সদস্যরা। তারা বলছেন, রিপন তাদের বিশ^স্ত। তাই এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে আসামি করা হয়নি। মামলাও আসামি হিসেবে কারও নাম নেই।

বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন রাজশাহী জেলা শাখার সচিব হাবিবুর রহমান জানান, টাকাগুলো ছিলো রবিউল ইসলামের ইউরিয়া সারের পে অর্ডারের টাকা। এই টাকা জমা দেওয়ার পরই তিনি সরকার থেকে ইউরিয়া সার নিতে পারবেন। ওই ব্যাগে টাকার পাশাপাশি ৬ লাখ ৭২ হাজার টাকার জনতা ব্যাংক মহিলা শাখার পে-অর্ডার ছিল। ব্যাগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ডিলারদের দেওয়া ভুর্তুকি বাবদ পাওয়া ৯৩ হাজার টাকার চেকও ছিল। নিয়মিতভাবে ম্যানেজার রিপন পে-অর্ডারের টাকাগুলো ব্যাংকে জমা দিয়ে আসতেন।

অগ্রণী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক আব্দুল মান্নান জানান, আমরা সিসিটিভির ফুটেজে দেখেছি, কাউন্টারের সামনে দুই হাত দূরে টাকার ব্যাগ রেখে গ্রাহক ভাউচার লিখছিলেন। এমন সময় তার পাশে এসে চারজন দাঁড়ায়। তাদের মধ্যে থেকে একজন নিচু হয়ে ব্যাগ নিয়ে যায়।

নগরীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মন বলেন, টাকার আসল মালিক রবিউল রেলের তেল চুরির মামলায় পলাতক রয়েছেন। এ কারণে ম্যানেজার টাকা জমা দিতে এসেছিলেন। কিন্তু দুই হাত দূরে ১৭ লাখ টাকার ব্যাগ রেখে তিনি ভাউচার লিখছিলেন। এ সময় যিনি টাকা নিয়েছেন, তার সাথে রিপন কলম আদান প্রদানও করেছেন। পুলিশের কাছে মনে হয়েছে, পরিকল্পিতভাবে কয়েকজন মিলে টাকা আত্মসাত করতেই ম্যানেজার রিপন এই নাটক সাজিয়েছেন। তা না হলে দুই হাত দূরে টাকা ফেলে রাখবেন কেন?

ওসি বলেন, টাকা নিয়ে যাওয়ার ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে। তবে মুখে মাস্ক পরে থাকার কারণে চেনা যাচ্ছে না। পুলিশ ম্যানেজার রিপন ও তার সাথে থাকা আব্দুর রাজ্জাক ট্রেডার্সের ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম অপুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে টাকা মালিকপক্ষের অভিযোগ না থাকায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে। এদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের যে কোন সময় হাজির করা যাবে বলে টাকার মালিকপক্ষ পুলিশকে জানিয়েছে। আর সব রহস্য ভেঙে টাকা উদ্ধার হবে বলেও জানিয়েছেন ওসি নিবারন চন্দ্র বর্মন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Pin on Pinterest
Pinterest

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *