করোনা যুদ্ধে থেমে নেই বোয়ালিয়া থানা পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার 

রাজশাহী বিভাগে ধীরে ধীরে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে প্রাণঘাতি করোনা। এই পর্যন্ত বিভাগে করোনা ধরা পড়েছে ২৪৯ জনের। আর জেলায় করোনা রোগির সংখ্যা ১৭ জন। তবে এখনো করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েনি রাজশাহী নগরীতে। কিন্তু দিন দিন বাড়ছে সংক্রমণ ঝুঁকি।

নগরীতে প্রাণকেন্দ্র বোয়ালিয়া থানা এলাকা। এই এলাকাটিই নগরীর অন্যতম বাণিজ্যকেন্দ্র। লকডাউন সত্ত্বেও প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে এখনো এই এলাকায় চলাচল করছে লোকজন। ভয়াবহ করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে নগরীর অন্যতম প্রবেশপথ রেলগেইট এলাকায় বসানো হয়েছে বিশেষ চেকপোস্ট। এখানে পালা করে সার্বক্ষণিক তল্লাশি চালাচ্ছেন থানা পুলিশ।

করোনা উপদ্রুত এলাকা থেকে আসা লোকজন নানান কায়দায় এড়িয়ে চলছেন এই পথ। ফলে সবচেয়ে সংক্রমণ ঝুঁকিতে রয়েছেন এই থানার পুলিশ সদস্যরা। এর বাইরে থানার পুলিশ সদস্যদের একটি বিশেষ দল সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত, হোম কোয়ারেন্টাইন নজরদারিসহ করোনায় রয়েছে অগ্রভাবে।

করোনার সংক্রমণ মোকাবিলায় সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের মতোই ভূমিকা পালন করছেন এই থানা পুলিশ সদস্যরা।

থানা পুলিশ সূত্র জানায়, লকডাউন থাকায় নগরীর অন্যতম এই প্রবেশপথে চেকপোস্টে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে পুলিশ। পাড়া-মহল্লায় ঘুরে বাসিন্দাদের ঘরে রাখতে মাইকিং করা হচ্ছে। সংক্রমণ ঝুঁকি নিয়ে যারা হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন তাদেরও দেখভাল করছে পুলিশ।

এছাড়া থানা এলাকায় চালানো ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাজে সহায়তা দিচ্ছে পুলিশ। করোনাদুর্গত মানুষের ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে খাবার। সম্প্রতি অসহায়
মানুষের হাতে এককভাবে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়ে বিশেষ নজির গড়েছে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ।

এর বাইরেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন, অপরাধীদের গ্রেফতার এবং মামলা নেয়ার মতো নিয়মিত কাজও চলছে । চলমান করোনা যুদ্ধে শুরু থেকেই যুক্ত রয়েছে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ।

জানা গেছে, নগর পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবীরের নির্দেশনায় করোনা যুদ্ধে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি নিবারন চন্দ্র বর্মন। এই অঞ্চলে পুলিশের পুরো কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করছেন বোয়ালিয়া জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার সাজিদ হোসেন ও সহকারী-পুলিশ কমিশনার ফারজিনা নাসরিন।

নিয়মিত মাঠপর্যায়ের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন তারা। পাশপাশি পুলিশ সদস্যদের মধ্যে মাস্ক এবং হ্যান্ড গ্লাভসসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সামগ্রী
সরবরাহ করা হয়েছে। কেবল নিজেদেরই নয় মানবিক সহায়তা নিয়ে হাজির হচ্ছে অসহায় মানুষের দরজায়।

এবিষয়ে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি নিবারন চন্দ্র বর্মন বলেন, নগর পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের ব্যক্তিগত উদ্যোগে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয় বোয়ালিয়া থানায়। এরপর তিনি নিজ উদ্যোগে এবং পরিবারের সদস্যদের উদ্যোগে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেন।

করোনা যুদ্ধে থেমে নেই বোয়ালিয়া থানা পুলিশ

এরপর একে একে তার বন্ধু, স্বজন, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ এই মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসেন। রাতের আধারে ঘুরে ঘুরে তিনি দুর্গত অসহায়, অসচ্ছল, প্রতিবন্ধি এমনকি যারা করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন খুঁজে খুঁজে তাদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেন।

তিনি আরো বলেন, করোনা মোকাবিলার প্রশিক্ষণ ছাড়াই করোনাযুদ্ধে মাঠে নেমেছে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ। চলমান এই সঙ্কটকালে পুলিশের
অন্যতম প্রধান দায়িত্ব সংক্রমণ ঠেকাতে গণজমায়েতে বাধা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা। মূলত এই কাজটি করতে গিয়ে বাইরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা

ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন। নগরীর মার্কেটগুলো খুললে আরো ঝুঁকি বাড়বে। ঝুঁকি বিবেচনায় সিটি মেয়র ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মার্কেট খোলার বিপক্ষে। ঝুঁকির বিষয়টি জনগণকে সেটি বোঝোচ্ছে পুলিশ। যদি মার্কেট খোলে, সে ক্ষেত্রে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে পুলিশ।

এদিকে, করোনাকালে পেশা বদলানো মাদক ব্যবসায়ীরা আবারো মাদকে ফিরছেন। তবে পাকড়াও হচ্ছেন পুলিশের হাতেই। বোয়ালিয়া থানা পুলিশের তিনটি বিশেষ দল চুরি-ছিনতাই ও মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সবসময়। এমন একটি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন উপপরিদর্শক মতিন আহমেদ।

মাদক ব্যবসায়ী ছিনতাইকারীদের কাছে তিনি মুর্তিমান আতঙ্ক। সাঁড়াশি অভিযানে পাকড়াও করছেন অপরাধীদের। করোনা সংকটেও থেমে নেই তার এই অভিযান। অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে অন্য দুটি দলও।

এছাড়া নগরীর সাহেববাজার এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তায় বিশেষ ভুমিকা রাখছে এসআই ইফতেখার আল আমনের নেতৃত্বে নগরীর মালোপাড়া ফাড়ির পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ওসি নিবারন চন্দ্র বর্মন বলেন, কোন পরিস্থিতিতেই চুরি-ছিনতাই ও মাদক ব্যবসায়ীদের ছাড় দেয়ার সুযোগও নেই। পুলিশের বিশেষ টিমগুলো এনিয়ে সার্বক্ষণিক দায়িত্বপালন করছে। প্রায় প্রতি দিনই ধরা পড়ছে অপরাধীরা। তবে আগের যে কোন সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা কম।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Pin on Pinterest
Pinterest

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *