রাজশাহীতে টিসিবি’র ‘পঁচা’ পেঁয়াজ দেওয়ায় ক্রেতাদের ক্ষোভ!

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাজারে এখনও কমেনি পেঁয়াজের ঝাঁজ। ঝাঁজ কমানোর প্রচেষ্টা হিসেবে সরকার বিদেশ থেকে আমদানি করে টিসিবি’র ডিলারদের দ্বারা জনগণকে নায্য মূল্যে দিচ্ছে পেঁয়াজ। কিন্তু ক্রেতাদের (জনসাধারণ) কপালে অর্ধেকেরও বেশী মিলছে পঁচা পেঁয়াজ।

দীর্ঘক্ষণ লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে পঁচা পেঁয়াজ পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন রাজশাহী নগরীর ক্রেতা সাধারণ। পঁচা পেঁয়াজ নিয়ে কথা বললে কিংবা পরিবর্তন করতে চাইলে হাত থেকে পেঁয়াজ কেড়ে নিয়ে টাকা ক্রেতার মুখে ছুড়ে মারছেন টিসিবির ডিলার ও তার লোকজন। এমন আচরণ সহ্য করে কেউ হয়ত ওই পেঁয়াজ-ই কিনছেন অথবা হতাশ হয়ে কেউ কেউ পেঁয়াজ ছাড়াই বাড়ি ফিরছেন। টিসিবি’র পেঁয়াজ নিয়ে এমন টুকটাক বাক-বিতন্ডা ও হট্টগোল নগরীর ৫টি পয়েন্টের সবগুলোতেই দৃষ্টিগোচর হয় বলে জানান টিসিবি’র সংশিষ্ঠ ডিলারেরা।

পঁচা পেয়াজের বিষয়ে জানতে চাইলে নাচোল ডিগ্রী কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যার প্রভাষক ফেরদৌস সিদ্দিকী সময়ের আলোকে জানান, ‘গতকাল পেঁয়াজ নিলাম টিসিবি’র। সেই পেঁয়াজের চার ভাগের তিন ভাগ পেঁয়াজই পঁচা। দাম কম তাই মানও কম বোধ হয়।’

রাজশাহীতে টিসিবির পঁচা পেঁয়াজ

বুধবার (১২ ফেব্রæয়ারি) সাহেব বাজার, রেলগেইটসহ নগরীর বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে সরজমিনে এসব ধরা পড়ে সময়ের আলোর চোখে। সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে টিসিবি ডিলার ও ক্রেতাদের মধ্যে বেশ উত্তেজনা দেখা দেয়। পঁচা পেঁয়াজকে কেন্দ্র করে গন্ডগলের সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, পরিবেশ শান্ত করা বাদ দিয়ে তাদেরই একজন চার কেজি পেঁয়াজ নিয়ে হাটা দেন, যা নিয়ম বর্হিভূত। ১জন ২কেজি করে পেঁয়াজ কিনতে পারবেন। পেঁয়াজ কিনতে লাইনে দাঁড়ানো কয়েকজন বৃদ্ধা এর প্রতিবাদ করায় এক পুলিশ সদস্য তাদের অকথ্য গালিগালাজ করেন। এছাড়াও গত রবিবার সকালে এক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ পেঁয়াজ কিনতে দাঁড়ালে তাকে পেঁয়াজ না দিয়ে লাঞ্ছিত করে লাইন থেকে বের করে দেওয়া। পরে অন্য ক্রেতাদের প্রতিবাদের মুখে ওই প্রতিবন্ধীকে পেঁয়াজ দিতে বাধ্য হয় টিসিবির বিক্রেতারা।

এদিকে, নগরীর রেলগেটেও পেঁয়াজ বিক্রিতে চলছে নানারকম অনিয়ম দূর্নীতি। আবার কেউ কেউ নায্য মূল্য ৩৫টাকার জায়গায় ৪০টাকা করে নিচ্ছে (৫টাকা বেশী) বলেও অভিযোগ দেন ক্রেতারা। দুপুরের পর পাওয়া যাচ্ছে না পেঁয়াজ। লম্বা লাইনে দাঁড়িয়েও প্রত্যা শিত পেয়াজ না পাওয়ায় হতাশ ক্রেতাসাধারণ। এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্রেতাসাধারণ। শৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশ তার নিজ দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করছে না বলেও জানান ভূক্তভোগি ক্রেতারা।

পুলিশের এমন আচরণের বিষয়ে জানতে বোয়ালিয়া থানার অফিস ইনচার্জ নিবারণ চন্দ্র বর্মণ অগ্নিবাণী প্রতিনিধিকে জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এমনটা হয়ে থাকলে আমি অবশ্যই এর ব্যবস্থা নিবো।

রাজশাহীতে টিসিবি’র ‘পঁচা’ পেঁয়াজ নিয়ে ক্রেতাদের ক্ষোভ!

নগরীর তালাইমারী বসবাসকারী মিমুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘দেশী পেঁয়াজের ঝাঁজের (১০০ টাকা কেজি) কারণে সরকারের সরবরাহ করা টিসিবি’র পেঁয়াজ কিনে খেতে হচ্ছে। যার জন্য জরুরী কাজ ফেলে সময় নষ্ট করে লম্বা লাইনে দাড়িয়ে পেঁয়াজ নিতে যায়। তারপরও অনেক সময় দুপুর গড়িয়ে বিকাল হতে না হতেই শোনা যায় পেঁয়াজ শেষ। এতো পেঁয়াজ যায় কোথায়?

এবিষয়ে টিসিবি’র আঞ্চলিক প্রধান প্রতাপ কুমার অগ্নিবাণীকে জানান, ‘পঁচা পেঁয়াজ টিসিবি থেকে সরবরাহ করছে এটা ভূল কথা। সেই সূদুর তুরস্ক থেকে শীপের মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে দু’একটা পেঁয়াজ চাপা খেয়ে একটু দাগ হয়ে যেতে পারে কিন্তু সেটা পঁচা নয়। পঁচা পেঁয়াজ হলে মানুষ সেটা হাতেই নিতো না। আমরাও সেগুলো বিক্রি করতে পারতাম নাহ, গুদামেই থেকে যেতো।’

বিশৃংঙ্খলা ও অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন শত শত মানুষকে পেঁয়াজ দিচ্ছে টিসিবি’র ডিলার এবং তাদের তদারকি করার জন্য আমাদের আছে মনিটরিং টিম, আছে পুলিশ বাহিনীও। কিন্তু, সবাই (ক্রেতা) আগে নিতে চায়, চায় তাড়াহুড়ো করতে। একটু দেরীও তাদের সহ্য হয় না। তাড়াতাড়ি পেঁয়াজ নেওয়ার জন্য লাইনে দাড়িয়ে ক্রেতারাই রবং চিৎকার-চেঁচামেচিঁ ও ডিলারদের সাথে অসদাচরণ করেন। তিনি বলেন, পাবলিক যদি এতোই সাধু হইতো তাহলে পেঁয়াজ কেনার জন্য পুলিশ মোতায়েন করা লাগতো না, আর পেঁয়াজের জন্য হানাহানি ও মৃত্যুর ঘটনাও ঘটত না।’

অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, দাম বেশী নেওয়ার সুযোগ নেই। বড় আকারের পেঁয়াজ হওয়ায় এবং অনেক সময় খুচরা না থাকায় ডিলারেরা ৫/১০ টাকার পেঁয়াজ সমন্বয় করে দিয়ে দেন। যারা এসব অভিযোগ করছেন তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Pin on Pinterest
Pinterest

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *