বিপিএল খেলাতে রাজশাহী জেতায় ‘রাসেল কাটিং’, অতপর পিন্সিপালের রোষানলে!

নিজস্ব প্রতিবেদক

বঙ্গবন্ধু বিপিএল টিটুয়েনটি খেলায় খুলনার সাথে রাজশাহীর বিজয়ে এন্ড্র রাসেলের মতন চুলের স্টাইল করে প্রিন্সিপালের রোষানলে পড়েছে মসজিদ মিশন একাডেমী (স্কুল এন্ড কলেজ) এর ৬ষ্ঠ শ্রেনির ছাত্র মো. সোহারদান সারমান (আভাস)।

দুই কানের পাশ দিয়ে ৪আঙ্গুলের মতন করে দুই সাইড থেকে পুরো চেছে ফেলা হয়েছে, যা পিছনের দিকে চোঙ্গা হয়ে ত্রিভুজাকারে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাথার বাকি চুল গুলো হাফ ইঞ্চি করে অবশিষ্ট। তা নিয়ে শিক্ষক ছাত্র সকলের হাস্য রসাত্মক পরিবেশ বিরাজমান। আর সেই চুলের কাটিং নিয়ে বেকায়দায় সারমান।

৬ষ্ঠ শ্রেনির সেই সারমানের বাসা রাজশাহী মহানগরীর কোট রানীদিঘীতে। তার বাবা মো. সারোয়ার হোসেন মিলন পেশায় ঠিকাদার এবং মা শারমিন আক্তার লিপি পেশায় বিউটিশিয়ান।

৬ষ্ঠ শ্রেনির ছাত্র সারমান জানায়, ‘বঙ্গবন্ধু বিপিএল টিটুয়েনটি খেলায় খুলনার সাথে রাজশাহীর জয়ে এন্ড্র রাসেলের ফাটাফাটি খেলেছে। তাই বাসায় কাউকে না জানিয়ে রাজশাহীর বিজয় দেখে রাতেই সেলুনে চুল কাটিয়ে রাসেলের মতন চুলের স্টাইল করেছে সে। তার চুলের স্টাইলের আরোও একটি কারণ উল্লেখ করে রাসেল বলে- তার বন্ধু সব সময় তার থেকে নিজের চুলের স্টাইল বেস্ট বলে অহংকার করে। তাই বিপিএল ক্রিকেটে রাজশাহী টিম খেলাতে জেতায় এবং বন্ধুর সাথে চুলের চেক্কা দেওয়ার লক্ষ্যে একটু ব্যতিক্রমধর্মী চুল কাটিয়েছে।’

অধ্যক্ষের সাথে কথোপকনের বিষয়ে সারমান জানায়, ‘আমি স্যারকে বললাম ১/২দিনেই চুল আগের মত হয়ে যাবে কিন্তু স্যার বুঝলোই নাহ। এবার চুলের কাটিং টা ভালোই কাটিং হয়েছে, কিন্তু স্যার রাখতে দিচ্ছে না!

সকাল থেকে সে চুল ডেকেই রেখেছিলো টুপি দিয়ে। কিন্তু দুপুরের দিকে গরমের কারণে মাথা খোলায় তার চুলের কাটিং সবার নজর কাড়ে।

দুপুর ২টায় ইংলিশ ক্লাসের শিক্ষক মো. বাকি বিল্লাহ বায়েজিদ সারমানের চুলের কাটিং দেখে নিয়ে আসেন অধ্যক্ষের কাছে। তা দেখে ক্ষুব্ধ হন অধ্যক্ষ।

তবে এবিষয়ে তিনি মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

অভিভাবককে কল করে বিষয়টি অবহিত করছেন অধ্যক্ষ। ছবি- ফয়সাল আহমেদ।

ক্রিকেটার রাসেলের মতন চুলের কাটিং এর বিষয়ে মসজিদ মিশন একাডেমীর অধ্যক্ষ মো. নুরুজ্জামান খান বলেন, ‘আমি হাসব, না কাঁদবো বুঝছি নাহ!’

দৈনিক অগ্নিবাণী প্রতিনিধিকে অধ্যক্ষ বলেন, ‘আমার এই প্রতিষ্ঠানে কোনো প্রকারের উগ্র ধরনের আচার ব্যবহার, কৃষ্টি-কালচার চলবে না। এখানে পড়তে হলে ভদ্র, মার্জিত ও আদর্শ অনুসরণ করে চলতে হবে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে যারা পাশ করে বের হয়েছে, সকলে নম্রতা, ভদ্রতা ও আদর্শ শিক্ষা নিয়ে গেছে। সে অনত্র থেকে এই প্রতিষ্ঠানে এসেছে, তাই নিয়ম জানে নাহ। তাছাড়া, বয়স অল্প, সে সবে মাত্র ৬ষ্ঠ শ্রেনির ছাত্র। তার কাছ থেকে অভিভাবকের নাম্বার নিয়ে এবিষয়ে কথা বলেছি। তার বাসাতেও জানে নাহ সে এমন উদ্ভট চুলের ছাট দিয়েছে।’

আগামীকাল তাকে ও তার অভিভাবককে সময় দেওয়া হয়েছে। চুল পুরোপুরি ন্যাড়া করা ছাড়া তার অন্য কোনো উপায় নেই। সে যদি কথা না শোনে তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান অধ্যক্ষ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Pin on Pinterest
Pinterest

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *