রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ সুরক্ষার দাবি

স্টাফ রিপোর্টার

রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সুরক্ষার দাবিতে রাস্তায় নেমে এসেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে তারা মানববন্ধন করেন।

মানববন্ধন চলাকালে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সাবেক শিক্ষক ডা. শের শাহ।

এতে বক্তব্য রাখেন, স্বাধীনতা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক পরিষদের বিভাগীয় সহসভাপতি ডা: মো. আবদুল খালেক বিশ্বাস, পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য ডা. হুসাইন আহমেদ রাশা, রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা: আনিসুর রহমান, মেডিকেল অফিসার ডা. মাহিদুজ্জামান ফারুক প্রমুখ।

কলেজের সাবেক শিক্ষক ডা: মুশতাক আহমদের সঞ্চালনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন- প্রবীন শিক্ষক ডা: শামীম চৌধুরী, ডা: সায়েরা বানু, হোমিও চিকিৎসক ডা: শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ লিকু, ডা. আলমগীর প্রমুখ।

ঘন্টাব্যাপী এই সমাবেশ থেকে রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট অপপ্রচার ও প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের পায়তারা রুখে দাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

পরে প্রতিষ্ঠানটি সুরক্ষার দাবিতে সিটি মেয়র ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও হোমিও অনুরাগীরা।

প্রসঙ্গত, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মাদার বক্সের নেতৃত্বে প্রবীন চিকিৎসক ডা: আবু বকর, ডা: আব্দুল লতিফ, ডা: কমর উদ্দিন, ডা: মুসলেম উদ্দিন, ডা: বিজন কুমার সাহা, ডা: ক্ষিতিশ বকসী প্রমুখ প্রথিতযশা হোমিও চিকিৎসকের প্রচেষ্টায় ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠা পায় রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ। একেবারেই পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ অবকাঠামো নিয়ে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড নিয়ন্ত্রিত এই চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অনুমোদিত ‘ডিপ্লোমা ইন হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন এন্ড সার্জারী’ (ডিএইচএমএস) কোর্স চালু আছে। এরই মধ্যে এই কলেজটি অন্যতম প্রাচীন ও সমৃদ্ধ চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বৃহৎবঙ্গের মধ্যে পরিচিতি পেয়েছে।

বর্তমানে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী এখানে অধ্যয়নরত। প্রতি বছর শতাধিক হোমিও চিকিৎসক এখান থেকে বেরিয়ে যান চিকিৎসাসেবার ব্রত নিয়ে। এখনকার নিবন্ধিত চিকিৎসকরা স্বল্প মূল্যে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিচ্ছেন তৃণমূলে।

১৯৮৫ সালে সরকারী কর্তৃপক্ষ ৩৪ শতক জমি মেডিকেল কলেজের নামে রেজিস্ট্রি করে দেয়। এতে সহযোগীতা করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক জামিলুর রহমান ও ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা গোলাম এনায়েত কবীর। বিধি মোতাবেক জমির মালিকানা স্বত্ত্ব রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের।

ভূমি উন্নয়ন কর ও সিটি কর্পোরেশন কর দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। সেখানে নির্মাণ হয়েছে আধুনিক ভবনও। কিন্তু অতিসম্প্রতি এই প্রতিষ্ঠান নিয়ে একটি মহল অপপ্রচারে লিপ্ত।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Pin on Pinterest
Pinterest

Leave a Reply

Your email address will not be published.