রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন, নেতাকর্মীদের মাঝে নানান কৌতুহল

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী রবিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। এনিয়ে নানান কৌতুহল রাজশাহী জেলা আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের মাঝে। কে হবে রাজশাহী জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক? দলীয় কোন্দলে বাদ পড়বেন কি কেউ না-কি থাকবেন তারা, নাকি আসবে নতুন কোনো সাবেক ছাত্রলীগের কান্ডারী নেতা?

খুব দ্রুতই এসব জলপনা কল্পনার অবসান হতে যাচ্ছে। আগামী রবিবার রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্স মাঠে সকালে রাজশাহী জেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। যাতে প্রধান অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এছাড়াও সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

ডানে রাজশাহী জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ ওমর ফারুক চৌধুরী ও ডানে সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূলের নেতাদের চাওয়া অনুযায়ী এবং বিতর্ক এড়াতে শনিবার বিকাল পর্যন্ত সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কাউন্সিলরদের ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি ছিলো। তবে আজ কাউন্সিলরদের ভোট গ্রহণ করা হবে, নাকি কেন্দ্রীয় নেতারা ভোট ছাড়াই সভাপতি-সম্পাদকের নাম ঘোষণা করে যাবেন তা নিয়ে আশায় আছেন তৃণমূলের নেতারা। ভোট ছাড়া কাউকে নেতৃত্বে আনা হলে তা শুধু দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনাই সিদ্ধান্ত দেবেন বলে দলের স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন।

এবার সম্মেলনে সভাপতি পদের প্রার্থী হচ্ছেন, এমনটি শোনা গেলেও তা অনেকটায় নাকচ করে দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি। তবে তিনি বলেন দলের সভানেত্রী তাকে দায়িত্ব দিয়ে তিনি গ্রহণ করবেন। প্রার্থী তালিকায় জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শাহরিয়ার আলমের নাম শোনা গেলেও তিনিও জানিয়েছেন প্রার্থী হচ্ছেন না। তবে সভাপতি প্রার্থী থাকছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, ও রাজশাহী-৫ আসনের সাবেক এমপি কাজী আবদুল ওয়াদুদ দারা।

তবে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম ঠাণ্ডু, সাবেক এমপি রায়হানুল ইসলাম রায়হান, সাবেক এমপি জিন্নাতুন নেছা তালুকদার, জেলার বর্তমান সহসভাপতি মকবুল খানসহ আরো কয়েকজনের নামও সভাপতি প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে। সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থী হচ্ছেন- রাজশাহী-৩ আসনের এমপি আয়েন উদ্দিন, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি আদিবা আঞ্জুম মিতা, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক লায়েব উদ্দিন লাভলু, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আসাদুজ্জামান আসাদ, বাগমারা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টু, চারঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান ফকরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন।

এদিকে শনিবার সকালে সম্মেলন মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, মঞ্চের টুকটাক কাজ বাকি। মাঠে মাইক লাগানো হয়েছে ইতিমধ্যে। সব কাজ তদারকি করছিলেন সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক প্রবীণ নেতা মেরাজ উদ্দিন মোল্লা।

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে পদ প্রত্যাশীদের ব্যানার ফেস্টুন

অপরদিকে সম্মেলন উপলক্ষে নেতাদের ব্যানার-ফেস্টুনে ভরে গেছে পুরো রাজশাহী মহানগরী। নগরীর প্রবেশদ্বারসহ বিভিন্ন স্থানে মোট ৩০টি তোরণও নির্মাণ করা হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। এর মধ্যে সম্মেলনস্থলের প্রধান তোরণটি উৎসর্গ করা হয়েছে জাতীয় চার নেতার অন্যতম রাজশাহীর কৃতি সন্তান শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানকে। অন্য তোরণগুলো উৎসর্গ করা হয়েছে দলের প্রয়াত অন্য নেতাদের। সম্মেলনে আওয়ামী লীগের জেলার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে শুরু করে উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অংশ নেবেন। তবে কাউন্সিলর থাকবেন ৩৬০ জনের মতো। এবার জেলা আওয়ামী লীগের ২১ জন উপদেষ্টাও কাউন্সিলর হবার সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন হয়েছিল ২০১৪ সালের ৬ ডিসেম্বর। ওই সম্মেলনে শুধুমাত্র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করে চলে যান কেন্দ্রীয় নেতারা। এর প্রায় এক বছর পর পুর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Pin on Pinterest
Pinterest

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *