ইসলামী বিধি অনুযায়ী স্বামীর সঙ্গে স্ত্রীর আচরণ যেমন হওয়া জরুরি!

অগ্নিবাণী ডেস্ক: যেকোনো ধর্মে একজন নারী ও পুরুষের একত্রে বসবাস ও যৌন আকাঙ্খা পূরণ হালাল ও সমাজস্বীকৃত বৈধ পন্থা হচ্ছে বিবাহ। শুধু তাই নয়, পরিবার নামক ক্ষুদ্র পতিষ্ঠানের মাধ্যমে বংশবিস্তার এবং সামাজিক দায়-দায়িত্ব পালনের অন্যতম দরজাও হচ্ছে বিবাহ। আর স্বামী-স্ত্রীর পবিত্র বন্ধনকে সুন্দর, সৌহার্যপূর্ণ, অটুট ও পবিত্র রাখতে স্ত্রীর ভূমিকা অগ্রগণ্য।

বিবাহ একটি পবিত্র বন্ধন। এ পবিত্র বন্ধনের কারণে নারী ও পুরুষ সমাজে সেচ্ছাচারিতামূলক যৌনাচার করতে পারে না, যা হারাম বলে গণ্য। আর এই কারণেই বিয়ের মাধ্যমে একজন পুরুষের জন্য তার স্ত্রী হালাল করা হয়েছে, যাতে সে হারাম যৌনাচারে লিপ্ত না হয়।

আর যদি কোনো কারণে স্ত্রীর প্রতি নাখোস হয়ে স্বামী কোনোরূপ হারাম যৌনাচারে লিপ্ত হয় তবে সে গুনাহের ভাগিদার শুধু সে পুরুষই নয়, বরং তার স্ত্রীও তার স্বামীর পাপের ভাগীদার বলে গণ্য হবে। তাই স্বামীর আদেশ নিষেধ পালন করা এবং স্বামীর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা রেখে চলাতেই প্রতিটি নারীর জন্য উত্তম কাজ।

এসম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি ভয়ের কথা বলেছেন। জানিয়েছেন অধিকাংশ নারী জাহান্নামি। তাই নারীদেরকে দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক সুন্দর ও নিরাপদ করার অনেক নসিহত পেশ করেছেন।

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক যত উত্তম ও মধুর হবে, দাম্পত্য জীবনে সুখ ও শান্তি তত বেশি বৃদ্ধি পাবে। কুরআন এবং হাদিসের বিবরণ থেকে জানা যায় যে, উত্তম স্ত্রী হলো তারা, যারা স্বামীকে যথাযথ সম্মান করে কারণ পরস্পরের প্রতি যথাযথ সম্মানই দুনিয়া ও পরকালের সফলতা লাভের উপায়।

অতঃপর স্বামীর ধন-সম্পদ সংরক্ষণ করার পাশাপাশি নিজেদের সতীত্ব রক্ষায় সতর্ক থাকে। স্বামীর উপস্থিত কিংবা অনুপস্থিতিতে এ দুটি কাজ স্ত্রীর প্রধান কর্তব্য।

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক কতটা গাঢ় তার প্রমাণ কুরআনে কারিমে আল্লাহ তাআলা তা ঘোষণা করেন- ‘তারা তোমাদের পোশাকস্বরূপ এবং তোমরাও তাদের পোশাকস্বরূপ।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৭)। সুতরাং স্ত্রীর উচিত স্বামীর উপস্থিত-অনুপস্থিত সর্বাবস্থায় নিজের ইজ্জত আব্রুর হেফাজত করা। স্বামীর আনন্দে নিজেকে সম্পৃক্ত করা।

হাদিসে পাকে এসেছে- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘উত্তম স্ত্রী হলো (সে-ই, যে) যখন তুমি তার দিকে তাকাও তখন সে তোমাকে আনন্দিত করে। যখন তাকে আদেশ কর তখন সে আনুগত্য করে আর যখন তুমি স্থানান্তরে যাও তখন সে তার ইজ্জত-আব্রু রক্ষা করে এবং সম্পদ হেফাযত করে।’

তাছাড়া যে স্ত্রী ইসলামি শরিয়তের হুকুম-আহকাম মেনে চলে, স্বামীর আনুগত্য করে, তার খেদমত করে এবং নিজের সতীত্ব রক্ষা করে হাদিসে পাকে তার জন্য জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে।

কুরআন ও হাদীসের আলোকে স্বামীর সঙ্গে স্ত্রীর আচরন যেমন হওয়া জরুরী
কুরআন ও হাদীসের আলোকে স্বামীর সঙ্গে স্ত্রীর আচরন যেমন হওয়া জরুরী

হাদিসে এসেছে- হজরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে নারী পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করে, রমজান মাসের রোযা রাখে, লজ্জাস্থানের হেফাজত করে এবং স্বামীর অনুগত থাকে; তাকে বলা হবে- তুমি যে দরজা দিয়ে চাও জান্নাতে প্রবেশ কর।’ (মুসনাদে আহমদ)

আবার যে স্ত্রী স্বামীর সঙ্গে উত্তম আচরণ করে না এবং স্বামীর প্রতি অসন্তুষ্ট থাকে তার সম্পর্কে হাদিসে কঠোরভাবে সতর্কতার কথা বলা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তার কোনো নামাজ কবুল হয় না, কোনো নেক আমল ওপরে উঠানো হয় না; যতক্ষণ স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্ট না হবে।’ (ইবনে হিব্বান)

যে নারী  স্বামীর একান্ত অনুগতা ও পতিব্রতা সে নারীর বড় মর্যাদা রয়েছে ইসলামে।

প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, ‘‘যদি আমি কাউকে কারো জন্য সিজদা করতে আদেশ করতাম, তাহলে নারীকে আদেশ করতাম, সে যেন তার  স্বামীকে সিজদা করে।’’

তিনি আরো এক হাদীসে বলেন- ‘‘দুই ব্যক্তির নামায তাদের মাথা অতিক্রম করে না (কবুল হয় না) ; সেই ক্রীতদাস যে তার প্রভুর নিকট থেকে পলায়ন করেছে, সে তার নিকট ফিরে না আসা পর্যন্ত এবং যে স্ত্রী তার  স্বামীর অবাধ্যাচরণ করেছে, সে তার বাধ্য না হওয়া পর্যন্ত (নামায কবুল হয় না।)’’

রাসূল বলেন- ‘‘তিন ব্যক্তির নামায কবুল হয় না, আকাশের দিকে উঠে না; মাথার উপরে যায় না; এমন ইমাম যার ইমামতি (অধিকাংশ) লোকে অপছন্দ করে, বিনা আদেশে যে কারো জানাযা পড়ায় এবং রাত্রে সঙ্গমের উদ্দেশ্যে  স্বামী ডাকলে যে স্ত্রী তাতে অসম্মত হয়।

রাসূল বলেন- ‘‘ স্বামী যখন তার স্ত্রীকে নিজ বিছানার দিকে (সঙ্গম করতে) আহ্ববান করে তখন যদি স্ত্রী না আসে, অতঃপর সে তার উপর রাগান্বিত অবস্থায় রাত্রি কাটায়, তবে সকাল পর্যন্ত ফিরিশ্তাবর্গ তার উপর অভিশাপ করতে থাকেন।’’ অন্য এক বর্ণনায় ‘‘যতক্ষণ পর্যন্ত না  স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ফিরিশ্তা তার উপর অভিশাপ করতে থাকেন।’’

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন- ‘‘ স্বামী যখন তার স্ত্রীকে নিজ বিছানার দিকে (সঙ্গম করতে) আহ্ববান করে তখন যদি স্ত্রী না আসে, অতঃপর সে তার উপর রাগান্বিত অবস্থায় রাত্রি কাটায়, তবে সকাল পর্যন্ত ফিরিশ্তাবর্গ তার উপর অভিশাপ করতে থাকেন।’’ অন্য এক বর্ণনায় ‘‘যতক্ষণ পর্যন্ত না  স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ফিরিশ্তা তার উপর অভিশাপ করতে থাকেন।’’

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীসে আরো বলেন‘‘তোমাদের স্ত্রীরাও জান্নাতী হবে; যে স্ত্রী অধিক প্রণয়িণী, সন্তানদাত্রী, বার-বার ভুল করে বার-বার  স্বামীর নিকট আত্মসমর্পণকারিণী, যার  স্বামী রাগ করলে সে তার নিকট এসে তার হাতে হাত রেখে বলে, আপনি রাজি (ঠান্ডা) না হওয়া পর্যন্ত আমি ঘুমাবই না।’’

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘স্বামীর সঙ্গে তোমার আচরণ কেমন তা ভেবে দেখ। কারণ স্বামীই তোমার জান্নাত কিংবা জাহান্নাম।’ (মুসনাদে আহমদ)

স্বামীর সঙ্গে স্ত্রীর আচরণ কেমন হবে তা প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে এক নারীর আলাপচারিতায় ফুটে ওঠেছে।

হাদিসে এসেছে- হজরত হুসাইন ইবনে মুহসিন থেকে বর্ণিত, তাঁর এক ফুফু প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে কোনো প্রয়োজনে এসেছিলেন। তাঁর প্রয়োজন পূর্ণ হলে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি কি বিবাহিতা? তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ’। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি স্বামীর সঙ্গে কেমন আচরণ করে থাক? তিনি বললেন, আমি একেবারে অপারগ না হলে তার সেবা ও আনুগত্যে না করি না।

কুরআন হাদিসের আলোকে বুঝা যায় যে, স্বামী-স্ত্রীর সুসম্পর্ক দাম্পত্য জীবনে সুখ-শান্তি লাভেই শুধু জরুরি নয় বরং পরকালের সফলতায়ও খুবই জরুরি। তাই পরস্পরের প্রতি সম্মান বজায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে স্বামীর উপস্থিত ও অনুপস্থিত সর্বাবস্থায় স্বামীর অধিকারগুলো রক্ষা করা স্ত্রীর জন্য আবশ্যক কর্তব্য। আর স্ত্রীলোক যদি কুরআন হাদীসের দেওয়া আদেশ নির্দেশ ব্যতীত তার নিজের সেচ্ছাচারিতা ও আধুনিক শিক্ষার আলোকে স্বামীর সাথে খারাপ আচরণ করে এবং সর্বদা তর্কে লিপ্ত থাকে তাহলে তার সংসার জীবন সুখকর হবে না। অচিরেই সংসারে ভাঙ্গন সৃষ্টি হবে। সে নারী দুনিয়া এবং আখিরাতে নিজের জন্য লানত উপার্জন করবে।

আরও পড়ুন > কুরআন ও হাদীসের আলোকে আদর্শ আর্দশ স্বামী যেমন হওয়া জরুরী

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব স্বামী-স্ত্রীকে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক জীবন-যাপন করার তাওফিক দান করুন। স্ত্রীদেরকে স্বামীর হকসমূহ যথাযথ রক্ষা করার মাধ্যমে দুনিয়া ও পরকালের সফলতা লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Pin on Pinterest
Pinterest

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *