রাজশাহীর বাঘার গুটি ৪০-৪৫, গোপাল ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি

বাঘা প্রতিনিধি: গ্রীষ্মকালে আম জাম কাঁঠালে জমজমাট হয়ে উঠে রাজশাহীর হাট বাজার। দূরদুরান্ত থেকে ব্যাপারি আসে রাজশাহীর সুমিষ্ঠ আমের টানে। আম প্রধান অঞ্চল হিসাবে খ্যাত রাজশাহীর বাঘায় এ বছর মৌসুমের শুরুতে আমের দাম আকাশ ছোঁয়া বলে মন্তব্য করেছেন আম চাষীরা। এ বছর বাঘায় আমের উৎপাদন কম হওয়ায় দাম বেড়েছে বলে মন্তব্য তাদের। মৌসুমের শুরুতেই গুটি জাতের আম ৪০ টাকা এবং গোপালভোগ আম ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত দু’দিন ধরে এই আম বাজারে আসছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় লোকজন জানান, প্রতি বছর মৌসুমের শুরুতে আমের দাম বেশি পাওয়ার আশায় মধু মাস জ্যৈষ্ঠ না আসতেই এ অঞ্চলে কিছু ব্যবসায়ী ও বাগান মালিক আম পাড়তে শুরু করে। কিন্তু এবার তার উল্টো ঘটনা ঘটেছে। এবার জেলা প্রশাসন আম পাড়ার সময় নির্ধারণ করে দিলেও আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে বিভিন্ন জাতের আম এখনও পরিপক্কতা পায়নি। এর ওপর তাপদাহের মধ্যে রমজান চলছে। এ কারণে এবার শুরুতে একদিকে বাজারে আমের আমদানি কম, অন্যদিকে দাম বেশি।

বাঘা উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ২০ মে থেকে রাজশাহী অঞ্চলে গুটি আম পাড়ার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। কিন্তু এবার আম চাষীদের অনুরোধে ৫ দিন এগিয়ে ১৫ মে থেকে গুটি, ২০ মে থেকে গোপালভোগ এবং ২৫ মে থেকে (গাছপাকা আম চোখে পড়লে) লখনাসহ অন্যান্য আম পাড়ার অনুমতি মেলে। এ দিক থেকে এ বছর এখন পর্যন্ত কোন ব্যবাসায়ী প্রশাসনের এই নির্দেশ অমান্য করেনি। ফলে রমজান মাস হওয়া সত্বেও বাজারে যথেষ্ট আমের চাহিদা রয়েছে।

বাঘার আম চাষী জিল্লুর রহমান জানান, রাজশাহীকে আমের জন্য বিখ্যাত বলা হলেও আম প্রধান অঞ্চল জেলার চারঘাট-বাঘা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জকে ঘিরে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাঘার আমের সুখ্যাতি সবচেয়ে বেশি। তিনি বলেন, গত বছর মৌসুমের শুরুতে গুটি আম ৩০ থেকে টাকা এবং গোপাল ভোগ ৪৫ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। এদিক থেকে এবার আমের বাজার অনেকটাই উর্ধগতি। এর কারণ হিসাবে এ বছর আমের উৎপাদন কম বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাঘা উপজেলা কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে বাঘায় ৮ হাজার ৩৬৮ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। উৎপাদন ধরা হয়েছে হেক্টর প্রতি ৮ মেট্্িরক টন। এখানে খাদ্য শস্যের পাশাপাশি অর্থকরী ফসল হিসেবে আমই প্রধান। প্রতি বছর বাঘা উপজেলার কৃষকরা শুধু আম বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করে ৬ থেকে ৭ শ’ কোটি টাকা।

প্রবাদ আছে ‘আমের আনা, মাছের পাই’ অর্থ্যাৎ আম যে পরিমাণ গাছে আসে, শেষ পর্যন্ত তার এক আনা থাকলেই ব্যবসায়ীদের লাভ। বাকি ১৫ আনা ঝরে গেলেও কিছু আসে যায় না। এখন এই প্রবাদকে লালন করে প্রতিদিন নিরলসভাবে আম পরিচর্যা করছেন আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Pin on Pinterest
Pinterest

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *