বাণিজ্য

রেমিট্যান্সে প্রণোদনা দিতে পারবে ব্যাংক, ‘জোড়াতালি সমাধান’ বলছেন বিশেষজ্ঞরা

অগ্নিবাণী ডেস্ক

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন বাফেদা এবং অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ এবিবি সম্প্রতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, প্রবাসী আয়ের ওপর বাড়তি আড়াই শতাংশ পর্যন্ত প্রণোদনা দেবে ব্যাংক।যদিও বাফেদা বলছে এই প্রণোদনা দেয়ার জন্য ব্যাংক বাধ্য নয়, ব্যাংক যদি প্রবাসী আয় কিনতে চায় তাহলে এই প্রণোদনা দিতে পারে।

বাংলাদেশে আগে থেকেই রেমিট্যান্স প্রেরণকারী প্রতিটি পরিবার প্রবাস থেকে প্রেরণ করা অর্থের ওপর সরকারের কাছ থেকে আড়াই শতাংশ হারে প্রণোদনা পেয়ে আসছে। এখন তার সঙ্গে এই বাড়তি প্রণোদনা যুক্ত হবে।

ব্যাংক বা প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যমে লেনদেনে উৎসাহিত করা এবং চলমান ডলার সংকট কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ রেমিটেন্স বা প্রবাসী কর্মীদের পাঠানো আয়।

কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক কয়েক মাস ধরেই প্রবাসী আয় কমছে।

কর্মকর্তা এবং বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, বৈধ পথে টাকা পাঠানোর হার কমে যাওয়া এর একটি কারণ হতে পারে।

এখন নতুন এই প্রণোদনা প্রবাসী আয় বাড়াতে কতটা সাহায্য করতে পারবে? চলমান বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্কট কাটাতে কি কোন ভূমিকা রাখতে পারবে এ সিদ্ধান্ত?

এদিকে শ্রমিকেরা বলছেন, সৌদি আরবে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করা রহিম মিয়া (পরিবর্তিত নাম) প্রায় প্রতি মাসেই বাংলাদেশে টাকা পাঠান। কিন্তু দুই বছর আগে সৌদি আরব যাওয়ার পর প্রথম কয়েক মাসের পর থেকে কখনোই বৈধ পদ্ধতিতে বাংলাদেশে টাকা পাঠাননি তিনি।

তিনি যখন জানতে পারেন যে এখন বৈধভাবে টাকা পাঠালে প্রতি ডলারে আগের চেয়ে বেশি টাকা পেতে পারেন, তখনও বৈধভাবে টাকা পাঠানোতে খুব একটা উৎসাহী মনে হল না তাকে।

বিবিসিকে রহিম মিয়া বলছিলেন, “যত টাকা বেশি পাওয়া যাবে তার চেয়ে বেশি রেটে এখনই দেশে পাঠাতে পারি আমরা। আর কম রেট ছাড়াও বৈধভাবে টাকা পাঠানোর জন্য এখানে (সৌদি আরবে) ব্যাংক অ্যাকাউন্ট লাগে, দেশে ব্যাংক অ্যােমিকাউন্ট লাগে – অনেক ঝামেলা।”

অগ্নিবাণী/এফএ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *